নিজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী দায়িত্ব ন্যস্ত হচ্ছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৩

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনারা এ দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করলে, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে পারলে ভবিষ্যতে সব নির্বাচনের সামগ্রিক দায়িত্ব আপনাদের হাতেই ন্যস্ত হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

সিইসি বলেন, আমরা যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা তা পারিনি। ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনের আগে আমি ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করেছি, নির্বাচনে কোনো থ্রেট আছে কিনা, নির্বাচন অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কী— এসব প্রশ্নে অনেকেই আমাকে থ্রেট আছে কি নেই, তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বাকি নির্বাচনগুলোয় ইসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারাও এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন মহলের দীর্ঘদিনের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। তবে নিজস্ব কর্মকর্তার ঘাটতিসহ নানা কারণ দেখিয়ে বিগত কমিশন প্রশাসনের বাইরে সম্পূর্ণভাবে চিন্তা করতে চাইনি। কে এম নূরুল হুদার কমিশনই প্রথম এমন পরিকল্পনা করছে।

সিইসি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করতে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই নির্বাচনের সামগ্রিক দায়িত্ব নিতে হবে। নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, এ জন্য ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা, নিষ্ঠা, সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আজকের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যারা উপস্থিত রয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের ওপর তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচনের সময় কয়েক দিনের জন্য ইসির আওতাভুক্ত হন। নির্বাচন শেষে তারা নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে যান। এর ফলে নির্বাচন নিয়ে ইসি কোনো বিষয়ে বোঝাপড়া করতে চাইলে তা সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, আর আপনারা ব্যর্থ হলে আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপরই নির্ভর করতে হবে।