ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রস্তাবটির উপর ভোটাভুটি হয়।
প্রস্তাবটির পক্ষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যই ভোট দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে ইরান সমঝোতাকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হলো এবং তেহরানের উপর থেকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হলো।
প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হয়েছে- বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই ভিয়েনায় সই হওয়া সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া, এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান যদি সমঝোতা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করে তাহলে আবার তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসবে। প্রস্তাবের এই অংশে বলা হয়েছে- ছয় জাতিগোষ্ঠীর যেকোনো একটি রাষ্ট্রও যদি অভিযোগ করে যে, ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে না তাহলে একটি যৌথ কমিশনে তা তোলা হবে এবং কমিশন সে অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখবে। এ কমিশন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইরান উপদেষ্টা বোর্ডে তুলতে পারবে। সেখানেও সময় থাকবে ১৫ দিন এবং এই বোর্ড বাধ্যতামূলক কোনো মতামত দেবে না।
পরে পাঁচদিনের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ডের মতামত পর্যালোচনা করে দেখবে যৌথ কমিশন। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে মোট ৩৫ দিন সময় থাকবে। এর মধ্যে সমাধান না হলে ইরানের ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পুরনো নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হবে। একমাত্র নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ছাড়া এ প্রক্রিয়া থামানোর কোনো উপায় থাকবে না। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যেকোনো এক সদস্য যদি কোনো অভিযোগ তোলে তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস হবে; এর বিরুদ্ধে কোনো ভেটো ক্ষমতা কার্যকর থাকবে না।
ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন। সূত্র: রেডিও তেহরান।
