জুবায়েরের ফেরার দিন

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৫, ২১:৩৭
 
জুবায়ের হোসেন লিখনকে নিয়ে একটা রহস্য আছে। রহস্য যত না তার বলে, তার চেয়ে বেশী লেগস্পিনার হিসেবে জুবায়েরের খেলা নিয়েই। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলারই সুযোগ পান না। সে নিয়ে তার সিনিয়র সতীর্থদের আফসোসেরও শেষ নেই। সাকিব আল হাসান এই সেদিনও বলছিলেন, বাংলাদেশকে টেস্ট জিততে হলে উইকেট নেওয়ার বোলার দরকার হবে। আর সেই যোগ্যতা সম্পন্ন বোলার তিনি জুবায়ের ছাড়া আর কাউকে দেখেন না।
 
সাকিবের এই কথার সত্যতা প্রমাণ করতে খুব বেশী সময় নিলেন না জুবায়ের। এখনও বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতাতে পারেননি। তবে প্রথম দিনেই বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রাখলেন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৪৮ রানে অলআউট করার পথে ৫৬ রান দিয়ে জুবায়ের তুলে নিলেন ৩ উইকেট।
 
এটা জুবায়েরের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নয়; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পথে ইনিংসে ৫ উইকেটও নিয়েছিলেন। জুবায়েরের সেরা বোলিং প্রদর্শনীও এটা নয়। এই সেদিন ভারতের বিপক্ষে গুগলি ও টার্নের যে পসরা সাজিয়েছিলেন, সে তুলনায় অনেক সাদামাটা বোলিংই করলেন মঙ্গলবার।
 
তারপরও উইকেটই যেখানে সাফল্যের একমাত্র পরিচায়ক, সে অর্থে জুবায়েরের দেখিয়ে দেওয়ার একটা দিন গেলো বৈকি! সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য বিলুপ্তপ্রায় লেগস্পিনটাকে আরও কিছুদিন প্রলম্বিত করার কাজটা করে ফেললেন।
 
শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই ক্লাসিক লেগস্পিনারদের একটা খরা চলছে।
ইমরান তাহির, স্যামুয়েল বদ্রী, অমিত মিশ্রদের সাফল্য দেখে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় মার্টিন ক্রো বলেছিলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা উপহার হল লেগস্পিনের পুনর্জন্ম।’
 
দুঃখের বিষয় হল, ওই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর এই রোমান্টিসিজমও শেষ হয়ে গেছে। এই লেগস্পিনাররা এমন কিছু নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারেননি। তবে তাহিররা পারুন আর নাই পারুন, লেগস্পিনের বিবেচনায় এক ইতিহাস রচনা করে ফেললো বাংলাদেশ—নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে ডাকা হল একজন স্পেশালিস্ট লেগ স্পিনারকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নতুন এক যুগে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন জুবায়ের হোসেন লিখন।
 
অলক কাপালি, রকিবুল হাসান, আল শাহরিয়ার রোকন, জাভেদ ওমর, মোহাম্মদ আশরাফুল থেকে শুরু করে মার্শাল আইয়ুব ও সাব্বির রহমান রুম্মনরা পার্টটাইম লেগস্পিন করেছেন বা করতেন। কিন্তু ওয়াহিদুল গনির পর বাংলাদেশে সে অর্থে সফল কোনো লেগস্পিনার জন্মই নেয়নি। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়াহিদুল গনি ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ওয়ানডের বেশি আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেননি; তার সময়ে টেস্ট থেকে শতহস্ত দূরে বাংলাদেশ।