রাজধানীতে ২৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ, এগুলো ভেঙে ফেলা হবে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০০:২৬

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম সংসদকে জানিয়েছেন, ২০১০ সালে রাজউক কর্তৃক প্রাথমিকভাবে ৩২১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১৬ সালের জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা একই হয়। এগুলোর মধ্যে ২৫টি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আরো ২৮টি ভবন ভেঙ্গে মালিকরা নতুন ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে বাকি ২৫৫টি ভবনের মধ্যে ৩৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ২২০টি বাহ্যিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। চূড়ান্তভাবে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে এসব ভবন ভেঙ্গে ফেলা হবে। গতকাল সোমবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।

ঢাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি ৬৪০৯টি

সরকারি দলের এমপি হাজী মোঃ সেলিমের প্রশ্নের জবাবে শ. ম. রেজাউল করিম সংসদকে জানান, রাজধানীতে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ৬ হাজার ৪০৯টি। এসব বাড়ি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ডিমান্ড নোট হোল্ডারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত বাড়ির মধ্যে কয়েকটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বরাদ্দ প্রাপক ও ডিমান্ড নোট হোল্ডারদের অনুকূলে বিক্রয় করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি মালিকদের অনুকূলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

পূর্বাচলে ২৪,৬৯৬টি প্লট বরাদ্দ

সরকারি দলের সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ২০০৩-২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩, ৫, ৭, ৭.৫ ও ১০ কাঠা আয়তনের মোট ২৪ হাজার ৬৯৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই প্লটগুলো প্রাপ্তদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্ন বিচারপতি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চাকরিজীবী, সশস্ত্রবাহিনী, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি, বেসরকারি চাকরিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক ও ক্রীড়াবিদ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে মূল অধিবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৩/এ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় কমবেশি ১৫ হাজার জনকে চূড়ান্তভাবে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বাকি প্লট এখনো বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, চলতি বছরের মধ্যে সবাইকে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হবে। রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, ২০০৮ সালের পর রাজউকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে তা কেস টু কেস বিশ্লেষণ করে সমাধান করা হচ্ছে। তবে, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে স্ত্রী কর্মজীবী ও টিআইএসধারী হলে  উভয়ই প্লট বরাদ্দ পেতে পারেন।

প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধে ৮ পদক্ষেপ

এদিকে, সরকারি দলের সদস্য মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক  ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সংসদকে জানান, প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধে সরকার ৮ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পদক্ষেপসমূহের মধ্যে রয়েছে বছরের শুরুতে প্রতিটি বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক জরিপপূর্বক ভর্তি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক এবং হোম ভিজিট করা, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা, রূপালী ব্যাংক শিউর ক্যাশের মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা এবং একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা।