তানোর উপজেলার সাড়ে নয়শ সরকারি পুকুর সাত বছর ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এতে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে সংস্কারের অভাবে পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পুকুরগুলোর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকার আমলে তানোরের সাড়ে নয়শ খাস পুকুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লিজ দেয়া হতো। পরবর্তীতে এক পরিপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পুকুরগুলো লিজ দেয়ার ব্যবস্থা হয়। ওই সময় সরকারকে শতকপ্রতি সাত টাকা খাজনা দেয়ার নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়। এ সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পুকুরগুলো অন্যত্র লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের মুনাফা করে আসছিলেন।
এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে পুকুরগুলো লিজ প্রদানের পরিপত্র জারি করা হয়। এরপর লিজ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে বাঁধাইড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ লিজ প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত লিজ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য ভূমি অফিসকে নির্দেশ দেয়।
মত্স্য চাষি আব্দুর রশিদ, ওমর আলী, কামাল হোসেন ও আব্দুল মতিনসহ আরো অনেকে বলেন, খাস পুকুরে মাছ চাষ করলে পাল্টে যাবে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। সেই সাথে পুকুরগুলো দখল মুক্ত করে লিজ দেয়া হলে শুধু তানোরের খাস পুকুর থেকে বছরে সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। কলমা ইউনিয়নের কৃষক আসগর আলী জানান, পুকুরগুলো সংস্কার করে এলাকার সেচ সঙ্কটও দূর করা সম্ভব। আবার মাছ চাষ করে ভূমিহীন ও দরিদ্ররা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
এসিল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনীরুজ্জামান ভূঞা বলেন, হাইকোর্টের রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছু করা যাচ্ছে না।
