ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৫, ২১:২৯
ঈদ গত হলো প্রায় এক সপ্তাহ। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে কর্মজীবী মানুষ নিজ কর্মস্থলে ছুটতে শুরু করেছে ঈদের পরদিন থেকেই। আর ঈদের ছুটি গত ৩/৪ দিন আগে শেষ হলেও এখনও কর্মস্থলে ফেরার পালা শেষ হয়নি অনেকেরই।
 
ঢাকাগামী যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটির পর অতিরিক্ত ছুটি ভোগ করে শনি বা রবিবার থেকে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। আবার চাকুরিজীবী ছাড়াও ঢাকাস্থ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, দিনমজুরদের কোন ছুটি-ছাটার বালাই না থাকায় তাদের কর্মস্থলে ফেরার পালা শুরু হয়েছে এখন।
 
সরেজমিনে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ ঘুরে দেখা গেছে আষাঢ়ের ঘনধারা মাথায় নিয়ে কর্মের তাগিদেও ছুটছে হাজারও মানুষ। প্রতিটি স্টেশন এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যাত্রীদের। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে অহরহ।
 
পর্যায়ক্রমে মানুষ কর্মস্থলে ফেরায় ঈদের ২/৪ দিনের মধ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হলেও সবপরিমাণ চাপ রয়েছে এখনও। ঢাকামুখী যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি ও বৃষ্টির কারণে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষজনদের মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।
 
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, নিমসার, চান্দিনা, মাধাইয়া, কুটুম্বপুর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির মধ্য দিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে ছুটছে মানুষ। ঢাকামুখী যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিটি স্টেশনে দীর্ঘ সাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাসে খালি সিট মিললেও অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের।
 
মহাসড়কের চান্দিনা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাগামী যাত্রী রহমান বলেন,  ‘ঢাকাতে আমার ছোট-খাট ব্যবসা আছে। সাধারণত ব্যবসায়িক ঝামেলায় অনেক সময় পরিবার-পরিজনদের সময় দিতে পারি না। তাই ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় আটদিন ছুটি ভোগ করে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আনন্দ করেছি। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে ব্যবসা শুরু করব, তাই স্ত্রী-ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আজ রওয়ানা করেছি। কিন্তু বৃষ্টির মধ্য প্রায় দুই ঘণ্টা হলো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। বাস মিললেও সিট মিলছে না।’
 
অপর যাত্রী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘চান্দিনা স্টেশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এ স্টেশন থেকে ৩/৪টি উপজেলার যাত্রীরা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু ওই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কোন পরিবহন নেই। কুমিল্লা-নোয়খালী-ফেনী, চাঁদপুর বা চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয় আমাদের। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেড় শ টাকার ভাড়া হাঁকাচ্ছে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা।’
 
বাস চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে আর ২/১ দিনই যাত্রীদের ভীড় থাকবে। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার সময় তেমন যাত্রী পাওয়া যায়নি। এর জন্য ২০-৫০ টাকা বেশি নিচ্ছি।’