তখন তাদের মাঠে থাকার কথা ছিল কিংবা ড্রেসিংরুমে ব্যাটিংয়ের জন্য অপেক্ষার।
সেই সময়ে ডেল স্টেইন ইনস্টাগ্রামে একটা ছবি পোস্ট করলেন চট্টগ্রামের কিশোরদের সঙ্গে ফুটবল খেলছেন তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে!
ফুটবল ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। বৃষ্টি এসে রোমাঞ্চকর টেস্টটা ম্লান করে দিলো অনেকটাই। এই টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছিলো দু দলেরই দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে। এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের টেস্টে পুরো একটা দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় এখন ড্রয়ের সম্ভাবনাই প্রবল এই ম্যাচে। আর হতে পারে বাংলাদেশি বোলারদের ভয়ানক কোনো পারফরম্যান্সে অতিলৌকিক জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের সম্ভাবনা অন্তত এই টেস্টে এখন শূন্যের কাছাকাছি।
বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে এমন অসামান্য সম্ভাবনা তৈরি করার পর বৃষ্টির কারণে হোটেলে বসে থাকা বাংলাদেশের হতাশার কথা বলছিলেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘বৃষ্টির কারণে খেলোয়াড়রা হতাশ। লড়াইটা জমজমাট ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এই জমজমাট লড়াইটা ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা এই টেস্টে ভালো খেলেছি। আগের দিন পর্যন্ত এই এই টেস্টে আমরা এগিয়ে ছিলাম। এখন বৃষ্টির কারণে দুই দলই সমান অবস্থানে। আকাশের যা অবস্থা তাতে আগামীকাল খেলা নাও হতে পারে। সে জায়গা থেকে হয়তো ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে।’
সুজন মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৮ রানের একটা লিড পেলেও তারা ভালো অবস্থাতেই ছিলেন ম্যাচে। শুক্রবার খেলা হলে আর প্রথম সেশনে কয়েকটা আঘাত হানতে পারলে ম্যাচ দ্রুতই তাদের হাতে চলে আসতো বলে বিশ্বাস করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, ‘৭৮ রানের লিড নিয়ে আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। (উইকেট পেলে)। তারপরও এই টেস্টে আমরা ভালো খেলেছি। এই টেস্টের প্রেরণা নিয়ে ঢাকা টেস্টে আরও ভালো খেলবো। ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও ভালো খেলার সময় এসেছে।’
এইভাবে হতাশা তৈরি হওয়ার একটা বড় দায় অবশ্য আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের ওপরই যায়।
জেনেশুনে এমন ঘোর বর্ষকালে খেলা ফেলাটা উচিত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলছিলেন, ‘আসলে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। বড় দলগুলোর খেলার সময়সূচী মিলিয়েই আমাদের খেলার সময় নির্ধারণ করতে হয়। এক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না আমাদের।’
তৃতীয় দিন শেষে খেলা যে পর্যায়ে ছিল তাতে শেষটা হতে পারত রোমাঞ্চকর। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই মিলিয়ে গেছে। প্রথমবারের মতো তাই বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো টেস্ট গড়াচ্ছে পঞ্চম দিনে। এতে বৃষ্টির যত ভূমিকা, তার চেয়ে অনেক বেশী স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স। চতুর্থ দিন শেষে এখনও ১৭ রানে এগিয়ে রয়েছে তারা।
শুক্রবার এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি বৃষ্টি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো থাকায় বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরুর জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হত না। কিন্তু বিরামহীন বৃষ্টির জন্য হোটেল থেকে মাঠেই আসেনি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। তবে দুপুরে মাঠে আসেন বাংলাদেশের কয়েক জন ক্রিকেটার।
বৃষ্টির কারণে আগেই খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় দিনের ২৫ ওভার ও তৃতীয় দিনের ২৪.৫ ওভার বাকি ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, পঞ্চম দিন শনিবারও বৃষ্টি হওয়ার জোরাল সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৬১ রান সংগ্রহ করা দক্ষিণ আফ্রিকার চট্টগ্রাম টেস্ট জেতার সম্ভাবনা একরকম শেষই হয়ে গেছে। অতিথিদের বিপক্ষে প্রথম আট টেস্টে হারা স্বাগতিকরা তাই বেরিয়ে আসবে হারের বৃত্ত থেকে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৮ রান তোলার পর বাংলাদেশ ৩২৬ রান করে ৭৮ রানের লিড নেয়।
