‘উত্তম গান’ দিয়ে মহানায়ককে স্মরণ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৫, ০০:২১

ঈদ উপলক্ষে এবারে অন্য ধারার অনুষ্ঠানের ভেতরে দারুনভাবে নজর কেড়েছে চ্যানেল আই এর ‘উত্তম গান’ অনুষ্ঠানটি। মহানায়ক উত্তম কুমারের লিপে ব্যবহূত কিছু জনপ্রিয় গান নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালনা করেছেন শাইখ সিরাজ। এ অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা থেকে উত্তম কুমারের নায়িকা সুপ্রিয়া দেবীকে আনা হয়েছিলো। ঈদ উপলক্ষে একাধিক চ্যানেল পশ্চিমবাংলার শিল্পীদের এনে বিভিন্ন ধরনের লাইভ প্রোগ্রাম করলেও অনুষ্ঠানটি ছিল সত্যিকার অর্থেই নান্দনিক। ‘উত্তম গান’ অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালকের ভূমিকায় শাইখ সিরাজ থাকলেও পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে নানা বিষয়ে বৈঠকী আড্ডায় মেতে উঠেছেন। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে উত্তম কুমারের সিনেমার গানগুলো পরিবেশন করেছেন আমাদের দেশের তারকা কণ্ঠশিল্পীরা।

 
এই ধরনের ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজন প্রসঙ্গে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘উত্তম-সুপ্রিয়া আমাদের বাঙালী জীবনের অনবদ্য নস্টালজিয়া। যে স্মৃতি ধারণ করে কয়েক প্রজন্ম প্রেম-ভালোবাসা বা প্রিয় মানুষের প্রতি নিবিড় অনুভবের কবিতা লিখতে পারে। আমরা সেই নস্টালজিয়াকেই আর্কাইভ করতে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটির উদ্যোগ নিই। সুপ্রিয়া দিকে রাজী করিয়ে আনতে আমাদের বেগ পেতে হলেও তিনি অনুষ্ঠানের আঙ্গিক দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। আবারও আসতে চেয়েছেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।’
 
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া দেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী বলেন, ‘এর আগে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে সুপ্রিয়া দি’র সাথে দেখা ও কথা হয়েছিল। কিন্তু এরকম লিভিং লিজেন্ডের পাশে তারই সেই কালজয়ী গান পরিবেশন করা সত্যিই অনন্য ব্যাপার। আমি গাইতে গাইতেই দিদির দিকে লক্ষ করছিলাম। মনে হচ্ছিল তিনি আমার গানের সাথে সাথে ঐ সময়টায় হারিয়ে যাচ্ছিলেন। এই ভালোলাগা বলে বোঝানোর মতো না। আয়োজক চ্যানেল আইকে এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ জানাতেই হয়।’
 
বিভিন্ন প্রসঙ্গে বরেণ্য এই অভিনেত্রীর সাথে কথা  প্রতিবেদকের কথা হলে ইত্তেফাককে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ব্যাপারে কিছু নস্টালজিক কথা বলেন।
 
উত্তমকুমার প্রসঙ্গে কিছু জানতে চাইলেই সুপ্রিয়া বলে ওঠেন, তোমরা কেউ সুচিত্রাকে প্রশ্ন করতে পারোনি বলে সারাজীবন সাংবাদিকের কাছে আমিই উত্তমকে নিয়ে বলে গেলাম। আমি নাকি উত্তম কুমারের আয়না এখন। অথচ বিভিন্ন আড্ডাচ্ছলে কথা হলে উত্তম বলতো আমি মারা গেলে ও আমার শোকসভায় কি বলবে। ওগুলো স্রেফ মজা করার জন্যই বলতো। অথচ আমিই আজীবন বলে যাচ্ছি।
 
বাংলাদেশে এ ধরনের অনুষ্ঠানে এসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে সুপ্রিয়া দেবী বলেন,‘ আমার তো মনে হচ্ছে আমি যৌবনের সেই সময়ে ফিরে যাচ্ছি। আর এত এত গুণী মানুষ উত্তম-সুপ্রিয়ার অনস্ক্রিন রসায়ন নিয়ে এত কিছু জানেন, ভাবতেই অবাক লাগলো সত্যিই এই শেষ সময়ে বাংলাদেশ আমাকে ভীষণ নস্টালজিক করলো।’
 
সৌমিত্র আর উত্তম দুজনই আপনার বন্ধু, সহকর্মী। তো এ দুজনের ভেতরে ইগো, ক্যারিয়ারের দৌড় কেমন দেখতেন।
 
এটা তো খুব কঠিন প্রশ্ন, কারণ ঐ দৌড়ের ভেতরে আমিও তো দৌড়াচ্ছি। যে উত্তমের সাথে কোন ক্যারেক্টারটা পাওয়া যায় কি না। এখন তো টলিউডের অনেক হিরো-হিরোইনকে বলিউড ঠিক মতো চেনেও না। অথচ ঐ সময় রাজকাপুরকে দেখেছি, রাজেশ খান্না, এমনকি দীলিপ কুমারও হার মানত উত্তম কুমার ক্রেজ-এর কাছে। সৌমিত্র ভীষণ গুণী অভিনেতা, কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু এর বাইরে নায়োকচিত যে ব্যাপার, ঐ যে দুষ্টুমির চাহনী, তরুনী সাম্রাজ্য এক হাসি দিয়ে পাগল করে দেয়া এসব উত্তম ছাড়া বিকল্প ছিল না।
 
ঐ কারণেই কি নায়ক ছবিতে সত্যজিত সৌমিত্রকে বাদ দিলেন।
 
বাদ দিলেন এটা ভুল কথা। হ্যা এটা ঠিক যে সৌমিত্র সত্যজিতের ১৪ টি ছবি করেছে, আর উত্তম সেখানে ২ টি। সেকারনে সব ছবির কাস্টিং এ সৌমিত্রের আবদার ছিল, সে অভিনয় করবে। সেই হিসেবে নায়ক ছবিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ঐ যে নায়ক আর ভালো অভিনেতা তো দুই জিনিস। ক্রেজ বলে কোনো শব্দ থাকলে ঐ উত্তমকে দেখেই বুঝেছি। ক্রেজ কাকে বলে।
 
‘উত্তম গান’ এর সেই বৈঠকি আসরে কাব্যচ্ছলেই সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকও নানানভাবে স্মৃতিতাড়িত করেছেন। পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে ছিলেন একাধিক গুণী দর্শক। যারা একই সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন যেমন, মুগ্ধ হয়ে সুপ্রিয়া দেবীর কথা আর সেই নস্টালজিক গান উপভোগ করেছেন। সর্বমহলে অনুষ্ঠানটি প্রশংসা পেয়েছে।
 

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথিরা হলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, রেহমান সোবহান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মাহফুজ আনাম, আবুল হায়াত, হাসানুল হক ইনু, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবির মোস্তফা। উপস্থিত ব্যক্তিত্বরা একে একে মঞ্চে এসে মহানায়ক উত্তম কুমার সম্পর্কে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।