ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার নাটিয়াপাড়া থেকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত ৬০ কি. মি. মহাসড়ক জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ঈদে শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। একদিকে বৃষ্টি অপর দিকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও যানজট প্রকট হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
আজ শনিবার মহসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভয়াবহ যানজট। একদিকে মহাসড়কে খানাখন্দকে ভরা অপরদিকে টানা বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে জানায়।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. হুমায়ূন কবীর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় যানজটের সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় যানজট নিরসনের জন্য তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকাগামী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজট তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে।
টাঙ্গাইল থেকে রাজধানী ঢাকা যাওয়ার দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ১৫-২০ ঘণ্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি লাগছে বলে অভিযোগ করেছে। বিশেষ যানজটে আটকে পড়া নারী, শিশু বয়স্ক ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, বোর্ডঘর, স্কয়ার, ক্যাডেট কলেজ, গোড়াই, ধেরুয়া, দেওহাটা, মির্জাপুর বাইপাস, কুরনী, কদিমধল্যা, পাকুল্যা, নাটিয়াপাড়া ও করটিয়া বাইপাস পর্যন্ত এই ৬০ কি. মি. এলাকায় তীব্র যানজট।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন মাইন বলেন, যানজট নিরসনের জন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, আনসার বাহিনী, র্যাব, আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়ন,কমিউনিটি পুলিশসহ পুলিশের সদস্যরা যানজট নিরসনের জন্য দিন রাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন মাইন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সচল রাখতে তাদের দিন রাত মহাসড়কে থাকতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা যানজট নিরসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট লেগে আছে।
