মেহেরপুরের গাংনীর পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের কনস্টেবল আলা উদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক ও ঘটনাস্থলের অদূরবর্তী স্থান থেকে ২ বস্তা ভর্তি ৩৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার ভোরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে মাইক্রোবাসটি আটক করে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তবে আত্মগোপনে রয়েছে মাইক্রোবাসের চালক ও যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল থেকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বস্তা ভর্তি ৩৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন।
মেহেরপুর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই মেহেরপুরের ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টীম বারইপাড়া গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই গ্রামের আনিছের বাড়ির অদূরবর্তী একটি বাঁশ বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। যার নং কুষ্টিয়া চ-০২-০০১১। ধারণা করা হচ্ছে রাতে ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যায় মালিক আনিসসহ তার সঙ্গীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। মাইক্রোবাসটি হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য হিসেবে আটক দেখিয়ে গাংনী থানায় নেয়া হয়েছে।
এদিকে রাতে পুলিশে একটি দল সাহেবনগর-হাড়াভাঙ্গা গ্রামের সড়কে তল্লাশি চালায়। এসময় দুটি বস্তা ভর্তি ৩৪০ বোতল বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের অদূরবর্তী সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত কনস্টেবলের ব্যবহৃত একটি শর্টগান ও ১৪ রাউন্ড গুলি। দৃর্বৃত্তদের হামলার সময় নিহত আলা উদ্দীনের কাছ থেকে অস্ত্র গুলি পড়ে যায় বলে জানান গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন।
শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর নামক স্থানে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাস থামায় কনস্টেবল আলা উদ্দীন। এসময় মাইক্রোবাসের যাত্রীবেসী দুর্বৃত্তরা তাকে মাইক্রোবাসের মধ্যে তুলে নিয়ে কুপিয়ে কিছুদূরে ফেলে সটকে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে আলাউদ্দীনের মৃত্যু হয়।
