ভরা শ্রাবণেও বৃষ্টির দেখা নেই পঞ্চগড়ে জমি ফেটে চৌচির

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৫, ০১:১০

অব্যাহত ভারী বর্ষণে সারাদেশের নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। কিন্তু ভিন্ন চিত্র পঞ্চগড়ে। আষাঢ় শেষে শ্রাবণ এলেও পঞ্চগড়ে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাতের। পানির অভাবে এখনো অনেক এলাকায় কৃষক আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারেনি। আবার যারা আগে জমিতে চারা লাগিয়েছে তাদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পানি না থাকায় গ্রীষ্মের মতো অবস্থা করতোয়ায়। বাকি নদীগুলোরও একই দশা। ঘোর বর্ষা মৌসুমেও নদীতে জমানো বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

 
পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। আষাঢ়ে শুরু হওয়া বৃষ্টি শ্রাবণে নামে অঝোর ধারায়। দিনে-রাতে মুষলধারে প্রবল বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ভরে যায়। গ্রীষ্মের মরা নদী পানিতে হয়ে যায় টই-টম্বুর। বন্যায় নদী পাড়ের অনেক মানুষ আশ্রয় নেয় আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উঁচু জায়গায়। কিন্তু শ্রাবণের প্রায় অর্ধেক পেরিয়ে যেতে থাকলেও পঞ্চগড়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মিলছে না। আষাঢ়ের শেষে ও শ্রাবণের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা তাদের কচি আমন চারা জমিতে রোপণ শুরু করে। এরপর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা হলেও পঞ্চগড়ের আকাশ মেঘমুক্ত। হাঁক-ডাক দিয়ে মাঝে মধ্যে বৃষ্টি নামলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
 

পঞ্চগড় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি ও সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান তৌহিদুল বারী বলেন, পঞ্চগড় জেলার মাটি বেলে-দোআঁশ। এখানে পানির ধারণ ক্ষমতা কম। কম বৃষ্টিপাত হলে দ্রুতই তা মাটির নিচে চলে যায়। ফলে মাটির ওপরিভাগ হয়ে পড়ে পানিশূন্য। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে ওপরিভাগে পানি থাকবে না। এতে করে কৃষিনির্ভর এই জেলায় কৃষিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।  তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে রাজশাহীসহ উত্তরের অনেক জেলা এখন মরুপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে ষড়ঋতুর আর দেখা মিলছে না। শীত আর গ্রীষ্মে মিলিয়ে যাচ্ছে বাকি কালগুলো।