র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও ঢাকা টেস্টে জয়ের লক্ষ্যেই খেলবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে তাদের আশাবাদী করে তুলছে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ৩০ জুলাই থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে এমনটাই জানান বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।
টানা বর্ষণে শেষ পর্যন্ত ড্র হওয়া চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে রবিবার ঢাকায় ফেরে বাংলাদেশ দল। রাজধানীতে ফিরে প্রথম দিনটা তারা কাটিয়েছে ছুটির মেজাজে। তবে টেস্টের আগের সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে।
বিমানবন্দরে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুজন। প্রতিপক্ষ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল, সে হিসেবে তাদের প্রতি সমীহ ঝরলেও নিজেদের মোটেই পিছিয়ে রাখতে নারাজ সুজন। টানা তিন হারের পর বাংলাদেশ দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে ঢাকা টেস্টে ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছাড়া সম্ভব বলে মনে করছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘আমারা (প্রথম টেস্টে) দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লিড নিয়েছিলাম। তাছাড়া তাদের আড়াইশো রানের মধ্যে বেঁধে ফেলি। টেস্টের খুব উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এটা। ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর টেস্টেও আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। সব মিলিয়ে পরিষ্কারভাবে বলা যায়, মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী অবস্থায় আছে দল। সুতরাং ঢাকা টেস্টে ছেলেরা দারুণ কিছু উপহার দেবে এমনটাই আশা করছি।’
নিজেরা দারুণ ছন্দে থাকলেও প্রতিপক্ষ দলটি যে দক্ষিণ আফ্রিকা সেটা আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সুজন। এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘এটা কোনভাবেই ভুলে যাওয়া চলবে না প্রতিপক্ষ দলটির নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা টেস্টে বিশ্বের সেরা দল। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাই হবে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারা এখনও বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল।’
প্রোটিয়া পেসারদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দারুণ এক লড়াই হবে বলেও মন্তব্য করেন সুজন। তিনি বলেন, ‘তাদের বোলাররা চাইবে আমাদের চাপে ফেলতে। এটা স্বীকার করতেই হবে, এই ফরম্যাটে তারা আমাদের চেয়ে বেশী অভ্যস্ত। আমাদের মেনে নিতে হবে, আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে থেকেই শুরু করবো। তবে যদি নিজেদের সেরা খেলাটা মাঠে উপহার দেয়া যায় এবং একই সঙ্গে নিজেদের সামর্থ্যে আমাদের আস্থা থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে ম্যাচটি দারুণ প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ হবে। আমরা সবাই তেমনটাই আশা করছি।’
ডেল স্টেইন-ভার্নন ফিল্যান্ডার-মরনে মরকেল; এই তিন প্রোটিয়া পেসারই এই মুহূর্তে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশ বোলারের তালিকায় আছেন। তবে সুজনের বিশ্বাস মুশফিক-তামিমদের সামর্থ্য আছে তাদের মোকাবেলা করার, ‘তাদের ফাস্ট বোলারদের মোকাবেলা করার সামর্থ্য ছেলেদের আছে। ছেলেরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বকাপে পেস সহায়ক উইকেটেও এ ধরনের আক্রমণ আমরা মোকাবেলা করেছি। তবে তারপরও সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার কিছু নেই। আশা করছি আমাদের জন্য সহায়ক একটা উইকেটই আমরা পাব এবং ভাল কিছু উপহার দিতে পারবো।’
নিজেদের কম্বিনেশন কিংবা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করলেও সুজনের বিশ্বাস, ঢাকা টেস্টেও বড় ভূমিকা পালন করবে উইকেট। যদিও যে কোন ধরনের উইকেটের সাথেই মুশফিক-তামিমদের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে বলেই প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তিনি।
