তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরীয় এলাকা থেকে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্তকে (আইএসআইএল) হটিয়ে মুক্তাঞ্চল গঠনে একমত হয়েছে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তুরস্কের আহ্বানে ব্রাসেলসে ন্যাটোর সাথে দেশটির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্মতি জানায়। খবর আলজাজিরা, রয়টার্স ও এএফপির ।
এর আগে আইএসআইএল এবং কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আঙ্কারার অভিযান প্রসঙ্গে আলোচনা করতে ন্যাটোর প্রতি আহ্বান জানায় তুরস্ক। তারই প্রেক্ষিতে এদিন বৈঠক করে তারা। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতামত জানায়। তবে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত সিরীয় নাগরিকের নিরাপত্তা বেড়ে গেলেও সিরিয়ার কুর্দি বাহিনী ওয়াইপিজির সাথে দ্বন্দ্বের বীজ আবারো রোপিত হলো।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন কিরবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আইএসআইএল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘নিরাপদ এলাকা’ গঠনের ব্যাপারে তুরস্কের সাথে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আইএস ঘাঁটিতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তুরস্কে আইএস জঙ্গিদের আক্রমণের পর থেকে জঙ্গিদের ওপর হামলা আরো বেগবান হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখন আঙ্কারা এবং ওয়াশিংটন মুক্তাঞ্চল গঠন, তুর্কির সিরীয় সীমান্ত বরাবর অধিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একযোগে কাজ করতে রাজি হয়েছে।
এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘নো ফ্লাই জোন’ এ কোন যৌথ সামরিক অভিযান করা হবে না। তবে তুরস্ক স্থলপথে যুক্তরাষ্টকে সহায়তা করে যাবে, যা তারা এখনো দিয়ে যাচ্ছে। তবে আইএসআইএলকে পরাভূত করার চেয়ে কুর্দিদের ক্ষমতাকে নস্যাত্ করতেই বেশি আগ্রহী তুরস্ক-এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র। কেন না দেশটি মনে করে, তাদের দেশের কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সাথে ওয়াইপিজি’র ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। দেশটিতে পিকেকে’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি-অধ্যুষিত গ্রামে গোলা বর্ষণের অভিযোগ সোমবার অস্বীকার করেছে তুরস্ক। তারা এ ঘটনা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
