অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ওয়ানডের সম্ভাবনা!

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৫, ২২:৩৩
 
সফরসূচি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দুই বোর্ডের সই-সিল করা সে সূচি এখন কেবল বিলির অপেক্ষা। সূচি অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ ঢাকায় পা রাখার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের। আর সূচি বলছে, এই সফরে কেবলই দুটি টেস্ট খেলবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে। কিন্তু হঠাৎ করেই বাতাসে অন্যরকম গুঞ্জন। খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইঙ্গিত দিলেন, এই সফরে একটি ওয়ানডে সিরিজও খেলতে পারে অস্ট্রেলিয়া!
 
দীর্ঘদিনের পাওনা এই টেস্ট সফরের সঙ্গে ওয়ানডে যোগ করার একটা পরিকল্পনা গত কিছুদিন ধরেই বিসিবি করছে। সোমবার রাতে একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে পাপন এই বিষয়ে বললেন, ‘দুবাইয়ে যে আইসিসি মিটিং আছে, ওখানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ব্যাপারে আলাপ হবে। যেহেতু দুটি টেস্ট আছে, ওয়ানডে খেলানোর জন্য রাজি করানো খুব কঠিন হবে না।’
 
তবে পাপনই কিন্তুটা যোগ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) যেহেতু এখনও কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি, তাই এটা তাদের সময় থাকা বা না থাকার ওপর বেশ খানিকটা নির্ভর করে,‘যদি ওদের উইন্ডো ওপেন থাকে। আমরা চাইলাম, কিন্তু ওদের খেলার মতো ফ্রি সময় থাকলো না, তাহলে তো আর হবে না। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। আশা করি আমাদের প্রস্তাবে তারা রাজী হবে।’
 
তবে বিসিবির ভেতরের কিছু সূত্র বলছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে কিছু ছাড় দিতেও তৈরি আছেন।
 
বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, প্রথমে দুবাইয়ের এই মিটিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বাড়তি হিসেবে ওয়ানডে সিরিজটা খেলার জন্য রাজী করানোর চেষ্টা করা হবে। তাতে নিতান্ত কাজ না হলে একটি টেস্ট সূচী থেকে বাদ দিয়ে হলেও একটি তিন ম্যাচ সিরিজ খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এই সূত্রটির দাবি, ইতিমধ্যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে বিসিবির পক্ষ থেকে তাদের এই প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সূত্র বলছিলেন, ‘আমাদের দল এখন ওয়ানডেতে দারুণ ফর্মে আছে। ফলে আমরা বাড়তি কিছু ওয়ানডে খেলতে চাইবো। পাশাপাশি আমাদের ২০১৯ বিশ্বকাপের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে এই বিশ্বকাপের জন্য সেরা আট দলের হিসাব করা হবে। এই সময়কালে আমাদের ঘরের মাটিতে খেলা এখনকার চেয়ে একটু কম। ফলে এখন যতোটা এগিয়ে থাকা যায়, ততোই ভালো।’
 
পাশাপাশি বিসিবির আর্থিক সম্ভাবনার ব্যাপারটাও এখানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদের হোম সিরিজগুলোর সম্প্রচারস্বত্ত বিক্রি হয়ে গেলেও সিরিজ বাই সিরিজ আয়ের কিছু উৎসব থেকে যায়। সেটাও বেশ ভালো একটা উত্সাহের কারণ। তবে মূল ব্যাপার অবশ্যই ওয়ানডেতে দলের ফর্ম।
 
আর এই ফর্ম বিবেচনাতেই আগামী বছর ভারত সফরেও ওয়ানডে সিরিজ যোগ করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে বিসিবি। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর জুনে প্রথমবারের মতো টেস্ট সফরে ভারতে যাবে বাংলাদেশ দল। মাঝে শ্রীনিবাসন-কামাল দ্বন্দ্বে কিছু সংশয় তৈরি হলেও জগমোহন ডালমিয়ার নতুন কমিটি বিসিবিকে আশ্বস্ত করেছে যে, বাংলাদেশকে তারা টেস্ট আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আর সেই টেস্টটা হওয়ার কথা ইডেন গার্ডেনে।
 
পাপন পরিষ্কার বললেন, ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ সেখানে গিয়ে খেলার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী তারা। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও আগামী বছর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে চায় বাংলাদেশের বিপক্ষে, ‘আগামী বছর ভারতের টেস্ট খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে আমাদের। সেই সিরিজে ওয়ানডে সংযুক্ত করার ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছি। ওদের রাজী না হওয়ারও কোন কারণ নেই। শ্রীলংকাও আমাদের সঙ্গে সিরিজ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে। সবকিছু ঠিক করবো আইসিসির পরবর্তী মিটিংয়ে গিয়ে।’
 
সবমিলিয়ে আরেকটা আটোসাটো সময় আসছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।