সুন্দরবনের নদী-খাল ইজারা দিচ্ছে প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৫, ০০:৫৬

ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশের জীববৈচিত্র্যসহ মত্স্য সম্পদের মালিক বনবিভাগ। কিন্তু মালিক হলেও এখন বন সন্নিহিত লোকালয়ের প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট এখন সুন্দরবনের নদ-নদী ও খাল খণ্ড খণ্ড আকারে ভাগ করে ইজারা দিচ্ছে। এভাবে সুন্দরবনের ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জেলেদের কাছে ইজারা দিয়ে অবৈধভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 
পূর্ব সুন্দরবনের জেলেরা জানান, তারা আগে বনবিভাগের অফিস থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পাস পারমিট নিয়ে ৩টি অভয়ারণ্যের জলভাগসহ ১৮টি খাল বাদে অন্যসব নদ-নদী ও খালে বছরে ১০ মাস ১৬ প্রকার জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। এখন তারা বনবিভাগ থেকে পাস পারমিট নিয়েও স্বাধীনভাবে মাছ শিকার করতে পারছেন না। প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে সুন্দরবনের কোন নদী বা খালের কোন্ অংশে কে জাল ধরবে তা লাখ লাখ টাকা নিয়ে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এভাবে পুরো সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালকে কয়েক হাজার খণ্ডে ভাগ করে জেলেদের কাছে অবৈধভাবে ইজারা দেয়া হচ্ছে। এসব প্রভাবশালী সুন্দরবনের বিভিন্ন অফিস, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পের এক শ্রেণির বনকর্তাদের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের জন্য চালু করেছে এ অবৈধ ইজারা প্রথা। প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেটের আদেশ অমান্য করলে জেলেদের পড়তে হয় বনদস্যুদের কবলে। পাশাপাশি ফাঁসানো হচ্ছে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়।
 

অন্যদিকে জেলেরা বৈধভাবে সুন্দরবনে গিয়ে মাছের জন্য বলেশ্বর, যমুনা, কুঙ্গা, পশুর, শিবসা, মালঞ্চ, রায়মঙ্গল, আড়পাঙ্গাশিয়া, শ্যালা, চুনকুড়ি, খোলপেটুয়া, কটকা, আড়য়াশিবসা, শাকবাড়িয়া, ঝাপা, বেতমোর, ভোলা, মরাভোলা, মরাপশুর, বল, হড্ডা, হংসরাজ, কাগা নদী ও খালে গিয়ে জাল ফেলতে পারছেন না। সেখানে প্রভাবশালীদের ওই সিন্ডিকেটকে মোটা অংকের টাকা দিলে ৩টি অভয়ারণ্যের জলভাগসহ ১৮টি খালে মাছ শিকার নিষিদ্ধ সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ জেলেদের মাছ ধরতে দেয়া হচ্ছে বলে জেলেরা অভিযোগ  করেছেন। তবে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত কোন জেলেই জীবন রক্ষায় এসব প্রভাবশালীর নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ধানসাগর স্টেশনের ওসি মো. সুলতান আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই স্টেশনে যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি তার জানা নেই।