আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে একাধিক দিনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, একাধিক দিনে নির্বাচন হলেও ফলাফল একদিনে প্রকাশ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গোলযোগ অনেকাংশ কমে আসবে। পাশাপাশি নির্বাচনে ফের ‘না’ ভোটের বিধান চালুর পক্ষে মত দেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে প্রার্থী হতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ বছর রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করারও প্রস্তাব দেন তারা। সম্প্রতি রংপুর অঞ্চলে থেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় এসব মত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সংসদ নির্বাচন পরিচালনার মূল আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ফের সংশোধনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মতামত পেয়েছে ইসি। নির্বাচন পরিচালনায় কী কী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় তা জানতে চাওয়া হয়েছিল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে। দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহণের পর বিভাগওয়ারি আনুপাতিক হারে প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের সুপারিশে।
গত মে মাসের শুরুর দিকে ইসি কার্যালয় থেকে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে ২৫ জুনের মধ্যে মতামত জানাতে বলা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এসব মতামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রস্তাবনায় কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের সময় যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সমর্থিত প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে বাধ্য করা অত্যন্ত দুরূহ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরকার সমর্থক প্রার্থীর হয়ে কাজ করে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালনার আইন থাকা প্রয়োজন।
খুলনা অঞ্চল থেকে পাঠানো এক প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল খরচের হিসাব দিলেও জবাবদিহিতা না থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। নির্বাচনের সময় ব্যাপক হারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ইসি সমালোচনার মুখে পড়ে। কিন্তু ইসির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা কম থাকে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে আরো বলা হয়, নির্বাচনে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় ইসির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পাঠানো প্রস্তাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে একই ধরনের মত বলা হয়েছে। ভোলা থেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় মনোনয়নপত্র দাখিলের অন্তত দুই বছর আগেই খেলাপি ঋণ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার বিধান চালুর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ইসি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে। এরপর এ বিষয়ে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন। তারপর আরপিও সংস্কারের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কিছু প্রস্তাব মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া গেছে। প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন সভায় প্রস্তাবগুলো কীভাবে আসে তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, আরপিওর প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য সংশোধনী নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবনাগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
