কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শিখতে গিয়ে পাহাড়ে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১৮:৫৬

  মুহাম্মদ সাইফুর রহমান

 

পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের রুপালি জলরাশি, পূর্বে ঘন সবুজ উপত্যকা, দক্ষিণে ইকোপার্ক, উপরে প্রাচীন মন্দির, পাহাড়ের গা ঘেঁষে ঝর্ণা, আর চারদিকে শুধু সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। অসংখ্য ছোট ছোট টিলা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সারা বছরই এখানে মেঘেরা খেলা করে। পাহাড় আর সমতলের মিশ্রণের এ জনপদটি শুধু বড় তীর্থস্থানই নয় ভ্রমণপিয়াসীদের প্রিয়স্থানও বটে। সব মিলিয়ে পাহাড়টি যেন এক নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। বলছিলাম মেঘ-পাহাড়ের মিতালি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা। অবস্থান চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড়। আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস’ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবার শিক্ষা সফরে ঘুরে এলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আমরা ২৮ জনের একটি টিম ঘুরতে যাই।

আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু, এবড়ো-থেবড়ো প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার পর চূড়ায় উঠে যখন চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রাখি তখন যেন রাজ্যের সব ভালো লাগা ভর করে। পাহাড়ের উপর থেকে দেখতে পাওয়া সুবিশাল সমুদ্র যেন হারিয়ে যাওয়ার ডাক দিচ্ছে। দৃশ্যটা চমত্কার। আমাদের দলের প্রত্যেকেরই একই মত, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নাম শুনলেই সবার মনে এ স্মৃতিটি সবার আগে উঁকি দিবে। ১৬ মার্চ সকাল ৭টার সময় ক্যাম্পাস থেকে দুটি হাইচে করে রওনা দিই আমরা। আর সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড শহরে গিয়ে পৌঁছাই। তারপর আর কিছুক্ষণ পথ পাড়ি দিয়ে সোজা চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে। চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীদের এক পরিবেশনায় নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরো সীতাকুণ্ডের রাস্তা এবং গানের তালে তালে গাড়িতেই সবাই নাচ আর কোরাসে মেতে উঠে।

পাহাড়ে ওঠার পথে শুধু একটিমাত্র ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়। এখান থেকে পাহাড়ে ওঠার পথ দুইভাগে বিভক্ত। ডানদিকের রাস্তাটির প্রায় পুরোটাই সিঁড়ি এবং বেশ খাড়া, আর বামদিকের রাস্তাটি পাহাড়ি পথ। মাঝে মাঝে কিছু ভাঙা সিঁড়িও আছে। বাম দিকের পথ দিয়ে ওঠা সহজ আর ডানদিকের সিঁড়ির পথ দিয়ে নামা সহজ।

প্রায় দেড় ঘণ্টা হাঁটার পর চোখে পড়ল একটি মন্দির। নতুন কেউ হলে ভেবে নিতে পারেন এটিই বোধ হয় চন্দ্রনাথ মন্দির এবং সর্বোচ্চ চূড়া। কিন্তু না আরো আধা ঘণ্টাখানেক হাঁটতে হবে চূড়ায় উঠতে হলে। আর এরপরেই দেখা মিলবে চন্দ্রনাথ মন্দিরের। আমরা যথারীতি আরো ২০ মিনিট হাঁটার পর চন্দ্রনাথ মন্দিরের দেখা পেলাম। প্রায় ১১শ’ ফুট উপরে এতো দূর পথ পাড়ি দিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলেই যেন প্রশান্তি।