'মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না'

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৫, ১৯:০৬

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না। বাল্যবিবাহ সমাজের একটি ব্যাধি। সভ্য সমাজে এটা কখনোই কল্পনা করা যায় না। এ থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরই সামাজিক বিপ্লব গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ঝরেপড়া (ড্রপআউট) শিশু বিষয়ে পলিসি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পরিসংখ্যান ব্যুরো যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

এ ছাড়ার সম্মানিত অতিথি ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিএফআইডি’র প্রতিনিধি সারা কুক ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডওর্য়াড বেগবেদার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি শিশু যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে দেশও শক্তিশালী হবে।

মেয়েদের বিয়ের বয়স সম্পর্কে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরাজ চুমকি বলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না। নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে ৫০টি আইন রয়েছে। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে এই আইনের বাস্তবায়ন হয় না।

তিনি বলেন, অস্বীকার করা যাবে না যে, বাল্যবিয়ে একটা অন্যতম সমস্যা। তবে সরকার এ সমস্যা সমাধানে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার শিশু বিবাহ বন্ধে বদ্ধ পরিকর। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮-এর নিচে কখনোই নামানো হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ঝরেপড়া (ড্রপআউট) শিশু বিষয়গুলো সামাজিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, দেশের স্কুলগুলোতে স্যানিটেশনের ভালো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে নারী ও শিশুদের মধ্যে স্কুল ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা কাজ করে। এর ফলে ড্রপ আউটের হার বাড়ে।

পলিসি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সব জেলাতেই বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরেপড়া শিশুরা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে- বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, ভোলা, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলায়। আর ঝরে পড়ার হার কম হচ্ছে- ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, ফেনী ও যশোর জেলায়।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ১০ লাখ শিশুই শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এর মধ্যে সেবাখাতে ৪১ শতাংশ, কৃষিখাতে ৩৯ শতাংশ এবং শিল্পখাতে ২০ শতাংশ শিশু নিয়োজিত রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকের বেশির বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগেই। আবার এদের পাঁচজনের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সে। তবে দিন দিন এ হার কমে আসছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।