দৃশ্যটা খুবই সাধারণ। বোলিং কোচের তত্ত্বাবধায়নে সেন্টার উইকেটের পাশে টানা বল করে যাচ্ছেন অধুনা নিয়মিত অফস্পিনার হয়ে ওঠা অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। এই সাধারণ দৃশ্যে অসাধারণত্ব আরোপ করলো নাসিরের বলে ‘ডানহাতি’ সৌম্য সরকারের এসে ব্যাট করা। প্রথম কয়েকটা বল স্বাভাবিকভাবে বামহাতে ব্যাট করেৎহঠাতই ডান হাতি হয়ে গেলেন; নাসিরকে একটা চারও মারলে ডানহাতি ব্যাটিংয়ে!
চাইলে এই দৃশ্যকে একটা প্রতীক হিসেবেও নিতে পারেন। ভাবতে পারেন টেস্ট একাদশে ঢোকার তুমুল লড়াই চালাচ্ছেন এই দুই ইনফর্ম তারকা। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা আদৌ কেউ জিতবেন কি না, সেটা জানতে আজকের সকালটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গুঞ্জন শোনা গেলো, বৃহস্পতিবার ১১ মাস পর আবার টেস্ট খেলতে নামতে পারেন নাসির হোসেন।
চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে খুব ভালো পারফরম্যান্সের কারণে একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তবে উইকেট বিবেচনায় ব্যাটিং গভীরতা একটু বাড়ানো ও অফস্পিন শক্তি জোরদার করার লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।
এমন একটি ইঙ্গিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কথাতেও পাওয়া গেল। তিনিও বললেন, একজন ব্যাটসম্যান বা একজন পেসার বাড়ানোর চিন্তা আছে তাদের, ‘এই উইকেটে আমাদের কম্বিনেশনে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। কারণ শেষ টেস্টে যে একাদশ খেলেছে, সবাই যার যার জায়গায় ভালো খেলেছে। আবার আমাদের যেহেতু পাঁচজন স্পিনার আছে সে দিক থেকে চিন্তা করে একজন পেসার বা একজন ব্যাটসম্যান সেরা একাদশে ঢুকেও যেতে পারে। যদি আমরা আরো চিন্তা করি, সে ক্ষেত্রে হয়তো এই পরিবর্তনটা আসবে।’
নাসির দলে ঢুকলে জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে তাইজুল ইসলাম বা জুবায়ের হোসেনকে। জুবায়ের সর্বশেষ টেস্টেও ভালো করেছেন। আর ঢাকার উইকেটে তার টার্ন ও গুগলি বেশী কাজে লাগার কথা। সে বিবেচনায় একজন বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে কপাল পুড়তে পারে তাইজুলের। কারণ, স্কোয়াডে বিশ্বের সেরা বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসানই আছেন। নাসির সুযোগ পেলে এটা তার টেস্টে প্রত্যাবর্তন হবে।
অভিষেকের পর থেকে টানা দুরন্ত খেলছিলেন ওয়ানডের মতো টেস্টেও। ১৬ টেস্টে ৯৫৮ রান করেছেন তিনি ৩৬.৮৪ গড়ে। এর মধ্যে সেঞ্চুরিও আছে। তবে শেষ কয়েকটা ম্যাচে ফর্ম হারিয়ে ফেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসে তাদের বিপক্ষে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। তারপর দলের বাইরেই ছিলেন বেশ কিছুদিন। এর মধ্যে ওয়ানডেতে প্রবল প্রতাপে ফিরে এলেও টেস্ট প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা চলছিলো।
