চ্যালেঞ্জের মধ্যেই টিকে থাকা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৭

 

ইত্তেফাকের নিয়মিত কলাম

‘তারুণ্য’ এখানে বিভিন্ন রকমের কাজ নিয়ে এগিয়ে আসা নারীর কথাও

স্থান পায়। দেখা যায় অনেক রকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে নারী টিকে থাকে।

সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে এখানে

তুলে ধরা হলো

মা হওয়ার জন্য আমি টানা দুই বছর

কাজ বন্ধ রেখেছি

—মাশরেকা বিনতে মোশাররফ

বিশ্বজুড়ে পাটপণ্য সমাদৃত করতে কাজ করছেন। কাজের পথের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে বলেন, একজন নারীকে সমাজ এখনও ব্যবসায়ী হিসেবে নিতে পারেনি। তোমার বউ চাকরি করে এপর্যন্ত ঠিক আছে। তবে এটাও ঠিক ভাল কাজ করলে যেমন তাদের আলোচনা বন্ধ হবে, তেমন মানুষ তা গ্রহণও করবে। আর একটি বড়প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেন মাশরেকা, তা হল মেয়েদের ব্যবসায়িক পরিবেশ। এখানে মেয়েদের ঋণ পাওয়া, ট্রেডলাইসেন্স করা সাবই এক একটা যুদ্ধ জয়। আর মেয়েদের মা হওয়ার কথাতো না বললেই না। মা হওয়ার জন্য আমি টানা দুই বছর কাজ বন্ধ রেখেছি। আমার উত্পাদন কমেছে, ঋণ বেড়েছে। তারপরে আবার শুরু করে পরিশ্রম করে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে হয়।

কিছু না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই ডিজিটাল উদ্যোক্তা হয়ে উঠা

—শিরিন জাহান

আনলাইনে যাবতীয় সেবা দিয়ে উদ্যোক্তার তক্কমা অর্জন করেছেন। ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে কিভাবে নিজেকে তৈরি করলেন, প্রশ্ন করলে শিরিন জানান, আমার কিছু না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই ডিজিটাল উদ্যোক্তা হয়ে উঠা। আমি কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতক্তোর সম্পন্ন করি। পড়াশুনা শেষ হওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। যখন পড়াশেষ করে কোনো একটা চাকরিতে ঢোকার সময় আমি ছোট ছোট দুটি সন্তানের মা। তাদের রেখে ৯টা-৫টা অফিস করা আমার সম্ভব ছিল না। স্বামী ব্যবসায়ী তাই ঘরে বসে কিছু করাকে প্রাধান্য দেই। আনলাইনে যাবতীয় সেবা দিয়ে উদ্যোক্তার তক্কমা অর্জন করেছেন শিরিন জাহান। শুধু তাই নয় গতবছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এটুআই সেরা উদ্যোক্তারও সম্মাননাও অর্জন করেছেন তিনি।

চামড়াজাত পণ্য ব্যবসায় স্বপ্ন পূরণ

—ঊর্মি

রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন সম্মাননা-২০১৬ পান ঊর্মি। কিছু না করার যন্ত্রণা তার জন্য বড় ধরনের অসুস্থতা ডেকে আনে। সেই অসুস্থতা থেকে ফিরে আসতে কিছু গয়না বিক্রি করে গোপনে আবার শুরু হয় তার চামরা ব্যবসা। এবার ছোট্ট একটি ঘরে দুটি পুরান মেশিন কিনে দুইজন লোক দিয়ে শুরু করেন লেডিশ ব্যাগ আর অফিস ব্যাক তৈরির কাজ। তৈরি পণ্য বাজারজাত শুরু হয়। প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে। একাগ্রতা আর নিষ্টা আবার তাকে পুরানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে এনে দেয়। বাড়তে থাকে কারবার, ২০১৫ সালে মোহাম্মদপুর টোকিও স্কয়ারে যাত্রা শুরু করে ঊর্মির ‘স্মার্ট লেদার’ প্রদর্শনীর। দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার ব্যাগ যাচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড-এর বাজারে।