টানা দুটো টেস্টে বাংলাদেশের বড় দলের বিপক্ষে ভালো করার নজির খুব কম। তার ওপর আবার মৌসুমের শেষ ম্যাচ। ফলে মনোসংযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ও আছে। এ অবস্থায় বিশ্বসেরা টেস্ট দলের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টকে বিরাট চ্যালেঞ্জ ও অনেক বড় একটা সুযোগ বলে মনে করছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম—
ম্যাচ বৃষ্টিতে ড্র হলেও নৈতিক জয়ের একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন আপনারা চট্টগ্রাম থেকে। সেটা ধরে রাখার পরিকল্পনাটা কী?
শেষ টেস্টটা সব দিক থেকেই আল্লাহর রহমতে খুব ভালো হয়েছে। বোলিং- ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং সবই ভালো হয়েছে। ওই ম্যাচ থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তবে এখানে উইকেট একটু ভিন্ন। চট্টগ্রামের তুলনায় এখানে বাউন্স বেশি। আমরা চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে সবাই খুব ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে এখন তো হারানো সম্ভব বলেই মনে হওয়ার কথা।
সম্ভব তো অবশ্যই। তবে সত্য হলো, আমরা টেস্টে এখনো খুব বেশি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারছি না। তবে সামপ্রতিক ফর্মের কথা বললে, আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। ওয়ানডে-টেস্ট; দুই ফরম্যাটেই। এটাই আমাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের দারুণ জায়গা। বোলারদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, ভালো জায়গায় বোলিং করে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকেও ২৪৮ রানে অলআউট করা যায়।
ঠিক কী লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামবেন?
লক্ষ্য তো আছেই জয়। তবে বিষয়টা এমন নয় যে, আমরা প্রথম দিনেই ম্যাচ জিতে যাবো। এটা পাঁচদিনের খেলা। পুরো পাঁচদিনই আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খেলতে হবে। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ও সুযোগও। আমরা যেহেতু এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলছি, সুযোগটা আসলে সেখানেই। তাদের বিপক্ষে জেতাটা অনেক বড় হবে।
উইকেট কেমন হবে বলে মনে হচ্ছে?
আবহাওয়ার কারণে উইকেটটা হয়তো কিউরেটর তার ইচ্ছেমতো বানাতে পারেননি। আপনারা জানেন ১০-১২ দিন উইকেট কাভারের নিচে ছিলো। ফলে কাজ করার সময়- সুযোগ পাওয়া যায়নি। আশা করছি উইকেটটা ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধার হবে। একই সাথে মিরপুরের উইকেটে পেসারদের জন্যও কিছু থাকে। এখানে মাটি অন্য রকম। এসজি বলে পেসাররা ভালো করবে। একই সাথে স্পিনাররাও কিছু পাবে। সব মিলিয়ে একটা স্পোর্টিং উইকেটেই খেলা হবে।
লম্বা সিজেনর শেষ ম্যাচ। মনোযোগ ধরে রাখার একটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ আছে?
অতীতে আগে এরকম হয়তো দেখা গেছে, শেষ ম্যাচে আমরা দায়িত্ব থেকে কিছুটা সরে গেছি; কিন্তু এবার আমরা সেটা মাথায় রেখেছি। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির মতো নয়, এখানে পুরো পাঁচদিন মনোযোগ ধরে রেখে খেলতে হবে। শারীরিকভাবে সবাই ফিট আছে। এর আগে তিনটি ম্যাচ হারার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সেটা আমাদের ‘মেন্টাল স্ট্রেংথ’ প্রমাণ করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলারদের কী মিরপুরে খেলাটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জের?
তাদের খেলা কঠিন। তবে অসম্ভব না। এরকম শক্তিশালী পেস আক্রমণকে এর আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। তবে ভালো খেলাটা লম্বা সময় ধরে করতে হবে। এক সেশন ভালো খেলে পরের সেশনে খারাপ খেললে লাভ হবে না। আমরা জানি, এই টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমরা যাতে বড় বড় ইনিংস খেলতে পারি, সেটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করছি, এই চ্যালেঞ্জটা নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।
বোলার রিয়াদকে টেস্টে কী একটু কম ব্যবহার করা হচ্ছে?
এটা আসলে নির্ভর ম্যাচের পরিস্থিতির উপর। কোন ধরনের আক্রমণ কিংবা কোন ধরনের পরিকল্পনায় বোলিং করব। অবশ্যই আমাদের অপশন আছে। তাদেরও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আছে কয়েকজন। তার অবশ্য সেট হওয়ার আগে অনেকে আউট হয়ে গেছে। আমাদের পরিকল্পনায় আছে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় রিয়াদ ভাই আরও ভাল জায়গায় বোলিং করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি শেষ ম্যাচে চেয়ে আরও ভাল বোলিং তিনি করতে পারেন। এটা অবশ্যই মাথায় আছে। চেষ্টা করব যেটা কম্বিনেশনে সঠিক হয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক হয় সেটাই করা হবে।
