একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটি বলেছে, ঐতিহাসিক এ রায়ে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও কলঙ্ক মুক্তির পথ একধাপ এগিয়েছে। একই সঙ্গে এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি যে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়স্থল দল সেটি আবারো প্রমাণিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই বিএনপিতে যুদ্ধাপরাধীরা আশ্রয় নেয়া শুরু করে। ওই সময়ই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মত হিংস্র মানুষ দলটিতে আশ্রয় নেন। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধপ্রিয় জনগণ থেকে অনেক আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, খালেদা-তারেক, বিএনপি-জামায়াত-শিবির যতই সহিংসতা, নাশকতা, ষড়যন্ত্র, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করুক না কেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতেই সম্পন্ন হবেই।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দানকারী ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পেয়েছে। যে ২ লক্ষ মা বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিল তারা ন্যায় বিচার পেয়েছে। স্বজন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে যে সকল শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রজন্ম আজো বেঁচে আছে তারা সান্ত্বনা ও স্বস্তি পেয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী মামলার সাক্ষী, তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ, প্রজন্ম দীর্ঘ বছর এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জাতির কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেশবাসী দীর্ঘকাল এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাহাঙ্গীর কবির নানক ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এক অকৃত্রিম সুহূদকে হারালো।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।
