>> রুমান হাফিজ
যত্রতত্র অবাধে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ঢাকা যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বাইরেও অনেক জায়গায় অভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এ সংকট সমাধানে দীর্ঘদিনেও তৈরি হয়নি কোনো পূণার্ঙ্গ নীতিমালা। এ সুযোগে ট্রাফিক পুলিশের ইচ্ছে মাফিক রুজু হচ্ছে ‘রং পার্কিং’ মামলা। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পার্কিং নীতিমালা ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে কোনোভাবেই নগরীর ব্যস্ততম এলাকার যানজট পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব নিয়েই চিন্তিত যেমন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি তেমনিভাবে চিন্তিত ও হতাশ দেশের আপামর জনসাধারণ। তবে আশার দিক হলো, সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্বদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিন শিক্ষার্থী নবেন্দু দে, অনিক মিয়া ও রাকিবুল ইসলাম যৌথভাবে তৈরি করেছেন স্বয়ংক্রিয়, আধুনিক গাড়ি পার্কিং পদ্ধতি, যার পুরোটাই প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যা আবিষ্কারের দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম।
ভাবনা যখন এলো
শহরাঞ্চলে মানুষ বসবাসের প্রবণতা দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, ঠিক সেভাবে বাড়ছে মানুষের ব্যবহারকৃত গাড়ি ও যানবাহনের সংখ্যা। কিন্তু এই যানবাহন রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এতে করে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে রাস্তায় যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করছে, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রচণ্ড যানজট। একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কাজের সময়, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান জ্বালানি। আর অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এসব সমস্যার কথা মাথায় রেখে এবং তা নিরসনের জন্য দীর্ঘ ছয় মাস গবেষণার পর এই স্বয়ংক্রিয় পার্কিং পদ্ধতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন তিন শিক্ষার্থী। যেটি মানুষের কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কার্য সম্পাদন করতে পারবে এবং অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেকগুলো গাড়ি পার্ক করে রাখাও সম্ভব হবে।
যা প্রয়োজন
এই পদ্ধতিতে গাড়ি পার্কিং করতে হলে প্রথমে চালক এসে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেবে, যদি পার্কিং করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকা থাকে তাহলে পার্কিং জোনের দরজা খুলে যাবে তারপর চালক পার্কিং জোনের প্লেটে গাড়িটি রেখে চলে আসবে, তখন গাড়ি রাখা প্লেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট ফাঁকা পার্কিং স্লটে গাড়িটি রেখে চলে আসবে। এইভাবে যতগুলো গাড়ি পার্কিং করার জায়গা থাকবে, ততগুলো গাড়িপার্কিং করা যাবে। আবার যখন চালক গাড়ি নিতে আসবে, তখন তাকে আবার তার ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে এবং যদি তার ফিঙ্গার প্রিন্টের সঙ্গে মিলে যায় তাহলে গাড়িটি আবার প্লেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে আসবে।
যত সুবিধা
আবিষ্কৃত পার্কিং সিস্টেম প্রজেক্টটি তিনতলা বিশিষ্ট। যার প্রতিটি তলায় চারটি করে গাড়ি রাখা যাবে এবং চাইলে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো যাবে। আমাদের দেশের সকল বড় বড় শহর বা সিটি কর্পোরেশনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
স্বপ্ন বাস্তবায়নে
নবেন্দু দে বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের এই ড্রিম প্রজেক্টটি বাস্তবে রূপ দিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে চাই।’ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের কিছু ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের এই উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, তাহলে আমরা আমাদের এই প্রজেক্টকে বাস্তবে রূপ দিতে পারব।’ এই প্রজেক্টটির সার্বিক তত্ত্ব্বাবধানে ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রুমেল এম এস রহমান পীর এবং সহকারী প্রভাষক নিয়াজ মুর্শেদুল হক।
