>> সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
আজ থেকে শত বছর আগে যখন হাতের কাছে নান্দনিক সব কসমেটিক পণ্যের সমাহার ছিল না, সৌন্দর্যের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে রূপ সচেতনরা আশ্রয় খুঁজে নিতেন এসব উপাদানে। তবে প্রযুক্তি আর সৃষ্টিশীলতার হাত ধরে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলেছে বারবার। লুকানো রূপকে প্রকাশের সঙ্গে বাড়তি মাত্রা যোগ করতেও জুড়ি নেই প্রসাধনীর। আর এমনই প্রসাধনী নিয়ে নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রসার ঘটান ফারজান মিতু।
পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে ফারজান মিতু পড়াশোনা করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর করেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে (ইউটিএস)। সেখানে থাকতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করেছেন। কিন্তু পরিবারের সবার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা দেখে বড় হওয়ায় নিজেরও ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল, তাই চাকরি ছেড়ে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। অনলাইনে শুরু করলেন কসমেটিক্স ও ফ্যাশন ম্যাটেরিয়াল বিক্রি। হোল সেল কিনে সেগুলো ই-কমার্স সাইট ইবে-তে খুচড়া বিক্রি করে বেশ লাভবান হলেন। এভাবেই চলছিল। ২০১০ সালে দেশে ফেরার পর যোগ দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারটা সবসময় মাথায় ছিল, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে ফারজান মিতু খুলে বসেন এনভি কসমেটিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের বাইরে থেকে মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রসাধনী সামগ্রী এনে সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতে থাকেন। স্কিন-কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রিতে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে ওঠে এনভি কসমেটিক্স। মিতু ভাবলেন, যেহেতু এই বিষয়ে কাজ করছেন, তাই এ নিয়ে পড়াশোনা করা দরকার। দেশের বাইরে গিয়ে স্কিন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার ও বিউটি নিয়ে পড়াশোনা করে আসেন। মাঝে এসিআই লিমিটেডে যোগ দেন বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে এসিআই-এর কর্মরতদের স্কিন, হেয়ার অ্যান্ড বিউটির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন মিতু। প্রতিষ্ঠানটিতে কিছুদিন কাজ করার পাশাপাশি নিজের এনভি কসমেটিক্সের পুঁজি বাড়াতে থাকেন; পরে পণ্যের পরিসর বাড়ান। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগ্রহ করে আনা শতভাগ বিশুদ্ধ মধুসহ বিভিন্ন অর্গানিক প্রোডাক্ট যুক্ত হয় এই তালিকায়। অর্গানিক প্রোডাক্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন নারীদের। ফারজান মিতু বলেন, ‘এনভি কসমেটিক্সের পণ্যে আস্থা রেখে প্রচুর নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই ক্রেতা বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদা ও আস্থার কথা মাথায় রেখেই মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তাদের কাছে। শুরুটা ফেসবুক পেজ কেন্দ্রিক হলেও এখন ওয়েবসাইট ও ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমেও অর্ডার আসে।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এনভি কসমেটিক্সকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।’ একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য বলেন জানালেন।
