মহাসড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচলে পুলিশের বাধায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অটোচালকদের অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে।
মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অবরোধ ভাংচুর করছে শ্রমিকরা। সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্দেশ্যে শনিবার থেকেই কার্যকর হয় এই সিদ্ধান্ত।
রবিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে অবরোধের চেষ্টা করে অটোরিকশা চালক-শ্রমিকরা। গাজীপুরে সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সাভারে অটোচালকরা সড়কে বসে অবরোধ করে। অন্যদিকে সিলেট নগরী ও ফেনীতে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গাজীপুরে পুলিশ অবরোধের খবর নাকচ করে দিয়ে বলেছে, অটোরিকশা চালক-শ্রমিকেরা পুলিশকে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য একটি মাঠের মধ্যে জড়ো হয়েছে।
সাভার থেকেও পাওয়া যাচ্ছে একই রকম সড়ক অবরোধের খবর। পুলিশ অবশ্য অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে গাজীপুরে মালিক ও চালকরা বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে। রবিবার সকালে গাজীপুর জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ মালিক-শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিলসহকারে জেলা শহরের রাজবাড়ী মাঠে এসে জড়ো হয়। সেখানে তারা দফায় দফায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা জানান, গাজীপুরে প্রায় ১০ হাজার বৈধ সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। তারা প্রতিবছর সরকারকে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে। মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকলে প্রায় ৩০ হাজার মালিক শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তারা অবিলম্বে সিএনজি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও রবিবার গাজীপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।
পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা, টেম্পো ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে সিএিনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও শ্রমিকরা ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফতেহপুর ও দেবীপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। IMG0
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ফলে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও শ্রমিকরা জানান, মহাসড়কে সিএিনজি অটোরিকশা চলাচল করতে না দিলে তারা অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।
তারা আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের পাশে সিএনজির পাম্পগুলো থাকায় গ্যাস ভর্তি করার জন্য মহাসড়কে আসতে হয় তাদের। সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাদের পথে বসতে হবে। তারা মনে করেন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু অটোরিকশাগুলো দায়ী নয়। বড় গাড়ি, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরিগুলোর বেপোরোয়া গতি এর জন্য দায়ী।
