মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ: প্রধান আসামিসহ আরো দুইজন গ্রেফতার

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৫, ২১:৪২
মাগুরার চাঞ্চল্যকর মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও মামলার এক নম্বর আসামি মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন সেনকে আটক করেছে (র‌্যাব) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান। রবিবার বিকেলে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে র‌্যাবের একটি সূত্র ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছে। এদিকে গতকাল রাতে মাগুরা থেকে এজাহারনামীয় ১৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে মাগুরা পুলিশ।
 
র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে সুমন পালিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানতে পারে র‌্যাব। কিন্তু বারবার অবস্থান বদল করায় তাকে ধরা যাচ্ছিল না। রবিবার বিকেলে কল্যাণপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকে নিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
 
মাগুরার পুলিশ সুপার একে এম এহসান উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সব পর্যায়েই তৎপরতা চলছে। এরই অংশ হিসেবে নজরুল ইসলাম গোপনে ঢাকা থেকে খুলনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার ওয়াপদা মোড় থেকে একটি যাত্রীবাহী কোচে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় ১৩ নম্বর আসামী। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত নজরুল ইসলাম শহরের দোয়াপাড় এলাকার হোসেন কারিগরের ছেলে।
 
গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় যুবলীগের কামরুল ভূঁইয়া গ্রুপ ও আজিবর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। গুলি মায়ের পেটে শিশুর শরীরও এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলে। দ্রুত ওই নারীকে অপারেশন করা হলে কন্যা শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে নবজাতক ও মা নাজমা বেগম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় আজিবর শেখ গ্রুপের গুলি ও বোমায় আহত হন নাজমার চাচা শ্বশুর মমিন ভূঁইয়া। পরদিন মমিন ভূঁইয়া মারা যান। 
 
এ ঘটনায় নিহত আব্দুল মোমিনের ছেলে রুবেল মিয়া বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, সুমন সেন, আলী, আজিবর, মুজিবর, সুমন হোসেন, আব্দুস সোবহান, ফরিদ, সাগর, রাফি, সোহেল রানা, লিটন, মিল্টন, নজরুল, সোহবান, সোলেমান ও রানা। এর মধ্যে সুমন হোসেন ও আব্দুস সোবহান নামে দুজনকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।