স্পোর্টস রিপোর্টার
বিদেশি তারকাদের ভিড়ে বিপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্লান পারফরম্যান্স সবসময়ই আলোচনার বড় খোরাক। খুদে ফরম্যাটে দেশীয় ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএলের বাইরে আরেকটি আসরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ টি-২০ টুর্নামেন্ট। খুব সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে জমজমাট লড়াই হয়েছে। ৬১ জন ক্রিকেটারের এই ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছে।
ব্যাটিংয়ে রুবেল মিয়া, মোহাম্মদ আরাফাতের মতো তরুণ তুর্কির সন্ধান মিলেছে। বোলিংয়ে পেসার মানিক খান, লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি নজর কেড়েছেন। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নিজেকে আবারো মেলে ধরেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা। দর্শকদেরও ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
সোমবার ফাইনালে প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ক্রিকেটার, ক্লাব কর্মকর্তা, কোচসহ ক্রিকেটাঙ্গনের সবার মুখে মুখে ফিরছে একটাই চাওয়া, এমন টি-২০ টুর্নামেন্ট প্রতি বছরই আয়োজন করতে হবে। আয়োজনের ধারাবাহিকতা সবাই চান।
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, খুব ভালো আয়োজন হয়েছে। এই টুর্নামেন্ট কয়েকবার হলে টি-২০ ফরম্যাটের জন্য ভালো ক্রিকেটার পাওয়া যাবে বলেই আশা তার।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সোমবার রাতে স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতি বছরই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেই থাকবে, প্রিমিয়ার লিগ না হলেও এটা হবে। মানে এটা প্রতি বছর থাকবে এটাই হলো কথা।’
পুরো টুর্নামেন্টেই ফতুল্লা, মিরপুরে খেলা দেখেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। সেই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘খুব ভালো টুর্নামেন্ট হয়েছে। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের জন্য খুব ভালো প্ল্যাটফর্ম। এখন প্রতি বছর আয়োজন করতে পারলে ভালো হবে।’
টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান নির্বাচক গতকাল বলেছেন, ‘ধারাবাহিকতা কিন্তু পুরোপুরি দরকার। কারণ এই ফরম্যাটে তো আমাদের ওই রকম ভালো প্লেয়ার নেই। তারপরে আমাদের পারফরম্যান্সও কিন্তু আহামরি না। যেটা আমরা বিপিএলে চাই আমাদের প্লেয়াররা বিশেষ করে তরুণরা আরও ভালো করুক। এই টুর্নামেন্ট যদি কয়েকবার করা যায় দেখবেন আমরা এই ফরম্যাটের জন্য ১০-১২টা প্লেয়ার পেয়ে যাব।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া প্রিমিয়ার লিগই খেলতে চায় না ক্লাবগুলো। এবার অবশ্য টি-২০ টুর্নামেন্টটা তারকা ক্রিকেটার ছাড়াই খেলেছে ক্লাব। যা স্বস্তি দিচ্ছে বিসিবি সভাপতিকে। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা থাকুক বা না থাকুক এই আসর হবেই ঘরোয়াতে। যেহেতু এটার সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের থাকা বা না থাকার পার্থক্য নাই সেহেতু আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এটা চালু হয়েছে এবং এটা থাকবে।’
ফাইনালে মিরপুর স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক দর্শক। তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও টুর্নামেন্টের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দেখে খুশি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে ভালো লেগেছে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বা বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়া একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর হতে পারে, যেটায় বাংলাদেশের মানুষের খুব আগ্রহ আছে, এটা ভালো লেগেছে।’
পরিসংখ্যান
সর্বোচ্চ রান : রুবেল মিয়া ১২৯ রান (প্রাইম ব্যাংক)
সর্বোচ্চ উইকেট : ফরহাদ রেজা (প্রাইম দোলেশ্বর) ও শহীদুল ইসলাম (শেখ জামাল) ১২ উইকেট
টুর্নামেন্ট সেরা : ফরহাদ রেজা (১০৭ রান ও ১১ উইকেট)
দলীয় সর্বোচ্চ : ১৯২/৪ (শাইনপুকুর)
