সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ১৪ বছর আগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শুক্কুর আলী অবশেষে ফাঁসির দণ্ড থেকে রেহাই পেলেন।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুক্কুর আলীর রায় পুর্নবিবেচনার (রিভিউ) আবেদন নিষ্পত্তি করে তাকে ফাঁসির দণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু (টিল ন্যাচারাল ডেথ) কারাদণ্ডাদেশ দেন। আইনজীবী এম কে রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।
শিশু ধর্ষণ-হত্যার ঘটনার সময় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের শুক্কুর আলী ১৪ বছরের কিশোর ছিল। বিচারিক আদালতের রায় প্রদানের সময় তার বয়স দাঁড়ায় ১৯ বছর। রায়ের সময়কার বয়স বিবেচনায় নিয়েই তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেন আদালত।
পরে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এমনকি আপিল বিভাগে করা রিভিউ আবেদনেও সাজা কমেনি বা অব্যাহতি পাননি শুক্কুর।
এদিকে বিচারিক আদালত শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার এক বছর আগে ২০০০ সালে জাতীয় সংসদ ১৯৯৫ সালের আইনটি বাতিল করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’২০০০ নামে আরেকটি আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে ধর্ষণের ফলে বা ধর্ষণের পর কাউকে হত্যা করা হলে তার শাস্তির বিধান রাখা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু শুক্কুর আলীর বিচার হয় ১৯৯৫ সালের আইনে। যে আইনে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধের শাস্তির বিধান ছিলো শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড।
এ বিষয়টিকে সামনে এনে শুক্কুর আলীর পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। তারা এক দেশে দুই আইনের এই বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। এ সংক্রান্ত ১৯৯৫ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৬(২) ধারায় যেখানে শাস্তির বিধান ছিল কেবল মৃত্যুদণ্ড তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২ মার্চ ৬(২) ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।
কিন্তু শুক্কুর আলীর বিচার নিয়ে হাইকোর্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
পরে বিষয়টি আপিলে যাওয়ার পর গত ৫ মে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে শুক্কুর আলীর দণ্ডও বহাল রাখেন।
শুক্কুর আলীর দণ্ড বহাল রাখা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রিভিউ পিটিশন দায়ের করে ব্লাস্ট। সোমবার এ আবেদনের নিষ্পত্তি করে আদালত উক্ত রায় দেন।
