অতি বর্ষণে শার্শায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত, দুর্বিষহ জীবন

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৫, ১৪:৩৬
অতি বর্ষণ, ভারতের ইছামতি নদীর পানির চাপ ও বাওড়ে অবৈধভাবে বাঁশের পাটা দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের হাজার হাজার বসবাসকারী। ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের হারিয়ে এখন গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে বিপদে পড়েছেন তারা। বন্যা কবলিত গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের কোন কাজ না থাকায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
 
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলার নাম শার্শা। ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। ২০০০ সালের বন্যার পর এই প্রথম  শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে অতিবর্ষণ, বাওড়ে অবৈধভাবে বাঁশের পাটা দিয়ে মাছ চাষ ও  ভারতীয় পানির চাপে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায়  প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  শতশত হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে মাছের ঘের আর ভেঙ্গে পড়েছে গ্রামের কাচা ঘর-বাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়ছে এখানকার খেটে খাওয়া মানুষ। খাদ্য সংকটে  গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে পড়েছে মহাবিপাকে। 
 
এ উপজেলার শ্বরবাংহুদা ও দাদখালী গ্রামের দু‘টি  ব্রিজ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বেনাপোল ঘিবা সড়ক ও দাদখালী-গয়ড়া সড়কে যান ও মানুষ চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।। দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ এসব গ্রামের  কয়েক হাজার পানিবন্দি মানুষ। স্কুলে পানি উঠায় এবং রাস্তা ডুবে যাওয়ায় স্কুলে না যেতে পেরে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বিরত রয়েছে। ভারত থেকে আসা পানির কারণে দিন দিন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে জানান তারা।
 
পানির চাপে ভেসে গেছে কয়েক ’শ মৎস্য ঘেরসহ হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। IMG0
 
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বাহাদুরপুর, পুটখালি, গোগা, ডিহি ও কায়বা এই ৫টি ইউনিয়নের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা না হলেও শার্শা উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, অসহায় মানুষের মধ্যে চাল ডাল ও নগদ অর্থ দেয়া হবে। এছাড়া সরকারি সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছেন। 
 
যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির বলেন, অতি বর্ষণ, ভারতীয় পানির চাপ ও বাওড়ে অবৈধভাবে বাঁশের পাটা দেয়ার কারণে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। যে সকল বাওড়ে পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে তা সরিয়ে ফেলা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নগদ অর্থ ও ত্রাণ দেয়া হবে। সরকারিভাবে  যাতে এই এলাকায় ত্রাণ আসে সে ব্যবস্থা করা হবে।
 
প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়াতে এখনও সরকার বা বিত্তবানরা এগিয়ে না আসায় তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।