মহাসড়কে ভাংচুর-নৈরাজ্য চলছেই। তিন চাকার অটোরিকশাসহ সব ধরণের অযান্ত্রিক যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লাসহ ১২ জেলার বিভিন্ন স্থানে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ সময় গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪জন শ্রমিক। সাতজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে তিন চাকার অটোরিকশাসহ সব ধরণের অযান্ত্রিক যানের চালকরা। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা এ সময় কমপক্ষে ২০টি যানবাহন ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ শ্রমিক আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৬ শ্রমিককে আটক করেছে বলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ডিআইও-১ নাসির উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় বিক্ষোভ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১১টায় সাইনবোর্ড এলাকায় মিছিল বের করে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। একই সময় মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায়ও বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জের সানইনবোর্ড এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় যানজট। পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ এবং লাঠিচার্জ করে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।
সোনারগাঁও: সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল উপজেলার মাগরাপাড়া চৌরাস্তা, কাঁচপুর, মদনপুর, টিপরদী ও পিরোজপুর এলাকায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করে সিএনজি, অটোরিক্সা চালক-মালিকরা। এ সময় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও পিরোজপুর এলাকায় মহাসড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিক্ষোভ স্থলের উভয় পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে যান চলাচল শুরু হয়।
নরসিংদী: নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, গতকাল নরসিংদী শহরের শতশত সিএনজি অটোরিকশার মালিক ও চালকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে।
কুমিল্লাঃ দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, সিএনজি অটোরিকশা চালক ও মালিকগণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে অবরোধ সৃষ্টি করায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় চারজন পুলিশসহ ১৪জন আহত হয়। পুলিশ রজ্জব আলী নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
গোপালদী বাজারঃ গোপালদী বাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রান্তা বন্ধ করে দেয় সিএনজি অটোরিকশার চালকেরা। গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
ফেনীঃ ফেনী প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার অটো রিকশা চলাচল করে। পুলিশ বাঁধা দেয়নি।
উজিরপুরঃ উজিরপুর সংবাদদাতা জানান, বরিশালের উজিরপুরে গতকাল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে আলফা, মাহিন্দ্রা ও অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নাটোরঃ নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে মালিক ও চালকরা যৌথভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করে।
মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অটো রিকশা চালকরা অবরোধ সৃষ্টি করায় দুপুরে এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
রংপুর ঃ রংপুর প্রতিনিধি জানান, মালিক ও চালকরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করে। পরে পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।
রাজবাড়ী ঃ রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, জেলার কালুখালীতে নছিমন, করিমন এবং থ্রি-হুইলার চালকরা কুষ্টিয়া সড়কে বিক্ষাভ মিছিল করে।
নান্দাইলঃ নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, শতাধিক চালক একত্রিত হয়ে মহাসড়কে অবস্থান ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। এ সময় ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে।
উল্লাপাড়াঃ উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, চালক ও মালিকেরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
শেরপুর (বগুড়া)ঃ শেরপুর সংবাদদাতা জানান, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে অটো রিকশা চালকরা।
মির্জাপুরঃ মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, মহাসড়কে সিএনজি, অটো টেম্পো ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীবাহী বাসের অভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
