ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে পশ্চিমের জেলাগুলোতে উঠতি রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে পশ্চিমের ৬ জেলায় আলু চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৫ হেক্টরে। আলু উঠতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে অনেক আলু ক্ষেতে পানি জমে। এতে ক্ষতি হবে। পিঁয়াজ চাষ হয়েছে ২৯ হাজার হেক্টরে। পিঁয়াজ ক্ষেতগুলো বাড়ন্ত পর্যায়ে রয়েছে। পিঁয়াজ এ পর্যায়ে একদম পানি সহ্য করতে পারে না। অনেক ক্ষেতে পানি জমে পিঁয়াজে পচন ধরবে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের চাষি আকমল হোসেন জানান, তিনি এবার ৮ বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। চাষে খরচ হয়েছে প্রায় দু’লাখ টাকা। আর ১৫-২০ দিন পর পিঁয়াজ উঠানো শুরু করা যেত। টানা বৃষ্টিতে তার অর্ধেক পিঁয়াজ ক্ষেতে পানি জমে আছে। এতে পিঁয়াজে পচন ধরবে। ব্রহ্মপুর গ্রামের আহম্মদ আলি বলেন, তার সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষে খরচ হয়েছে একলাখ টাকা। বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আছে। পিঁয়াজ পচতে শুরু করেছে।
এবার এ অঞ্চলে ২৫ হাজার ৭১২ হেক্টরে গম চাষ হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেতের গমে পাক ধরেছে। আবার কোনো ক্ষেতে শীষ বের হচ্ছে। পাকা বা শীষ বের হওয়া গম বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি হয়। গমের দানা কুচকে কালো হয়ে যায়। দানা ছোট হয়।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে আলু, পিঁয়াজ, গম, মসুর, মটর ও তামাকের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়ায় অনেক গম ক্ষেত মাটিতে লেপটে পড়েছে।
ঝিনাইদহের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রোদ হলে তেমন ক্ষতি হবে না। মেহেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, তার জেলায় মসুরের ক্ষতি হয়েছে। আলু ও পিঁয়াজ উঠে গেছে। গমের ক্ষতি হবে না।
