এর চেয়ে নিষ্ঠুর, নৃশংসভাবে প্রতিশোধটা নেওয়া সম্ভব ছিলো না। কিছুদিন আগেই নিউজল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে এসেছে। তাদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতে গেলো ৭ উইকেটে। তাও আবার ৩০৩ রান ধাওয়া করে নাটকীয় এক জয়। এই ফলাফলে নিউজিল্যান্ডের সম্মানেই টান পড়ে গিয়েছিলো। মঙ্গলবার হারারেতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মার্টিন গাপটিল ও টম লাথামের দানবীয় দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে ১০ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে সিরিজে এলো ১-১ সমতা।
সিকান্দার রাজার সাত নম্বরে নেমে করা সেঞ্চুরির কল্যানে আগে ব্যাট করে ২৩৫ রান তুলেছিলো জিম্বাবুয়ে। সেই রান নিয়ে ছেলেখেলা করলেন গাপটিল ও লাথাম। ৪৬টি বল ও সব কটি উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌছে গেলো তারা। এই বিশাল জয়ের পথে নিউজিল্যান্ডের যে কোনো উইকেটের তৃতীয় সেরা ও উদ্বোধনী জুটির দ্বিতীয় সেরা অপরাজিত ২৩৬ রান যোগ করে গাপটিল ও লাথাম।
১১৬ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১১০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন লাথাম। অন্য দিকে ১৩৮ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ১১৬ রানের ইনিংস খেলে উইকেটে ছিলেন গাপটিল।
এর আগে হারারেতে মঙ্গলবার টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩ রান তুলতেই চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় তারা। আগের ম্যাচে অর্ধশতক করা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা কোনো রান না করেই ফিরে যান এদিন।
চামু চিবাবা দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে। একে একে ফিরে যান ক্রেইগ আরভিন, রেগিস চাকাবভা ও অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা। এরপর চিবাবাও আউট হয়ে ফেরেন। ৬৮ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। যাওয়ার আগে ৪৪ বলে ৬টি চারে ৪২ রান করেন চিবাবা।
এরপর জিম্বাবুয়ে আড়াইশ রানের কাছাকাছি করতে পারে সিকান্দার রাজার নৈপুণ্যে। ৯৫ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। অসাধারণ ইনিংসটি ৫টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজান তিনি।
রাজাকে সঙ্গ দিতে ছোট অথচ কার্যকরী দুটি ইনিংস খেলেন শন উইলিয়ামস ও টিনাশে পানিয়াঙ্গারা। উইলিয়ামস আউট হন ২৬ রান করে। এর আগে ষষ্ঠ উইকেটে রাজার সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি। চারটি চারে ৩৯ বলে ৩৩ রান করেন পানিয়াঙ্গারা। নবম উইকেটে রাজার সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়েন তিনি।
রাজার শতকটি আসে নাটকীয়ভাবে। শেষ ওভারে শতক পেতে ৫ রান প্রয়োজন ছিল তার। প্রথম বলে ২ রান নেন তিনি। দ্বিতীয় বলে নেন ১ রান। তৃতীয় বলে ১ রান নিয়ে আবার রাজাকে স্ট্রাইক দেন পানিয়াঙ্গারা। শেষ ৩ বলে শতক পেতে রাজার প্রয়োজন পড়ে ২ রান। চতুর্থ বলে ১ রান নেন তিনি। পরের বলটি অফসাইডে ঠেলে দিয়েই ১ রান নিয়ে আবার রাজাকে স্ট্রাইক দেন পানিয়াঙ্গারা। 'নো' হওয়া ষষ্ঠ বলে ১ রান নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন রাজা।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ইশ সোধি। ২৭ রানে ২ উইকেট নেন গ্র্যান্ট এলিয়ট।
