‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ নির্বাচন ৮ আগস্ট

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৫, ১৬:১১
 
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ নির্বাচন ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৪৮৭টি উপজেলা ও আটটি মহানগরের এক হাজার ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন হবে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই কথা বলেন।
 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আধুনিক যুগের শিক্ষা ও জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি বর্তমান সরকার তাদের গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনায় গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ৮ আগস্ট দেশের প্রত্যেক উপজেলা ও মহানগরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ধারাবাহিকভাবে দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা ও কারিগরি বিদ্যালয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে কোন প্রার্থীই মিছিল, পোস্টার ছাপানো বা সভা করতে পারবে না। তবে প্রার্থীগণ স্কুল ক্যাম্পাসের ভিতরে হাতেলেখা পোস্টার ও অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে ভোট প্রার্থনা করতে পারবে বলে তিনি জানান। বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীই ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হবে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ভোটার তালিকা অনুযায়ী যেকোন শিক্ষার্থী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে।
 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ভোটার প্রত্যেক শেণিতে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি শ্রেণিতে দুইটি করে মোট আটটি ভোট প্রদান করতে পারবে। প্রত্যেক শ্রেণি থেকে একজন করে পাঁচটি শ্রেণি থেকে পাঁচজন এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত তিন শ্রেণি থেকে একজন করে তিনজন নিয়ে মোট আটজনের ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ গঠিত হবে।
 
তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে স্টুডেন্টস কেবিনেটের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐ সভায় কেবিনেটের সভাপতি নির্বাচন, নিজেদের মধ্যে কর্মবন্টন, প্রতিশ্রেণী বা শাখা থেকে দুইজন করে সহযোগী সদস্য মনোনয়ন এবং সাংবাত্সরিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ কার্যক্রম শুরু করবে।
 
তিনি বলেন, স্টুডেন্টস কেবিনেট প্রতিমাসে অন্তত একটি সভা করবে। কেবিনেটের সভাপতি সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেবিনেটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে। শিক্ষকগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। প্রতি ছয়মাস অন্তর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে স্টুডেন্টস কেবিনেটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐ সভায় তাদের কাজের জন্য একক ও যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। যে সকল সদস্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ও অপারগ হবে তারা পদত্যাগ করবে এবং পরবর্তী অধিক ভোটপ্রাপ্ত সদস্যকে কেবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং শৃঙ্খলা ও ভোট গণনার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই পালন করবে। শিক্ষকগণ, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকগণ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন। নির্বাচনে কোন প্রতীক ও ছাপানো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
 
তিনি বলেন, আগামী ৮ আগস্ট স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্টুডেন্টস কেবিনেট ম্যানুয়েল ও নির্বাচনী তফসিল নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তফসিল অনুসারে প্রার্থীরা গত ২৭ জুলাই তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে। ৮ আগস্ট শনিবার সারা দেশের উল্লেখিত বিদ্যালয়গুলোতে সকাল আটটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
 
মন্ত্রী বলেন, আট সদস্যের এই কেবিনেটে প্রত্যেকের পৃথক কর্মপরিধি বা পোর্টফোলিও থাকবে। সেগুলো হচ্ছে- পরিবেশ সংরক্ষণ (বিদ্যালয়, আঙ্গিনা, টয়লেট পরিষ্কার এবং বর্জ ব্যবস্থাপনা); পুস্তক ও শিখন সামগ্রী; স্বাস্থ্য; ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহপাঠ কার্যক্রম; পানিসম্পদ; বৃক্ষরোপণ ও বাগান তৈরি ইত্যাদি (সবুজায়ন); দিবস পালন ও অনুষ্ঠান সম্পাদন, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন এবং আইসিটি।
 
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব মো: নজরুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।-বাসস।