নাটোরে 'চুরির অপরাধে' দুইজনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৫, ১৮:০৩
 
নাটোরের বড়াইগ্রামে উপজেলার দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামে একটি দোকান চুরির অভিযোগে এক কিশোর সহ ২ জনকে গাছের সাথে বেঁধে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
 
মঙ্গলবার রাতেই নাটোরের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা অথবা কাউকে আটক করা হয়নি।
 
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৩১ জুলাই বড়াইগ্রাম উপজেলার দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামের বুলবুল হোসেনের মুদির দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুদিন পর রবিবার সন্দেহমূলকভাবে আবু সামা ও শাকিল নামের দুই কিশোরকে ধরে চুরি হওয়া দোকানের সামনে সুপারি গাছের সাথে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। এ সময় নির্যাতিত আবু সামা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও রেহাই পায়নি নির্যাতনের হাত থেকে।
 
তবে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শাকিল নিজে চুরি না করলেও চুরির সময় পাহারা দিয়েছে বলে স্বীকার করে। অসুস্থ শাকিলকে বাড়িতে থাকলেও অপর অভিযুক্ত আবু সামাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আবু সামার স্ত্রী মাবিয়া বেগম ও শাকিলের মা হাসিনা বেগম জানায়, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে অন্য একটি বাড়ি থেকে। তারপরও নির্দয়ভাবে দু’জনকে পেটানো হয়েছে। তারা এর বিচার দাবি করেছেন।
 
তবে চুরি হওয়া দোকান মালিক বুলবুল হোসেনের দাবি, শাকিল ও আবু সামা চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
 
চুরির অপরাধে দু’জনকে পেটানোর ঘটনার কথা স্থানীয়রা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে সামাজিক বিচারের নামে আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
 
স্থানীয় ইউপি মেম্বার কামরুল ইসলাম জানান ঘটনার পর বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা এসে সামাজিক ভাবে মীমাংসার কথা শুনে ফিরে যান। সাবেক মেম্বার আবদুস সোবহান জানান, চুরির সাথে জড়িত থাকায় সামাজিক ভাবে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হয়েছে।
 
নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেটানোর খবর শুনে তিনি নিজে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারপরও তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।