ফেলানী হত্যার পুন:বিচারে বিএসএফের আশ্বাস

বিজিবি’র সহায়তায় ন্যায়বিচারের স্বপ্ন বাবা নুর ইসলামের

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৫, ১৫:৩১
নতুন বিচারকদের সমন্বয়ে নতুনভাবে গঠিত আদালতে বিজিবির সহায়তায় আবারও আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাইবো। আমার মেয়েকে পাখির মত গুলি করে মেরেছে। আমার বুকের পাঁজর ভেঙ্গেছে। আমি তাকে কোনদিন ক্ষমা করব না। আশা করি এবার ন্যায় বিচার পাব। 
 
সীমান্তে নিহত ফেলানীর পরিবার চাইলে বিএসএফ ফের এই হত্যাকাণ্ডের পুন:বিচারের উদ্যোগ নেবে, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত এ খবরের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম শুক্রবার সকালে নিজ বাড়িতে এসব কথা বলেন। 
 
এসময় অশ্রুসজল মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের খুনিকে খালাস দেয়ায় আমরা সেদিন সারারাত আল্লাহর কাছে কেঁদেছি। তিনি আমাদের কান্না শুনেছেন। আশা করছি এবারে খুনির ফাঁসি হবে।
 
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায় গত সোমবার ভারতের নয়া দিল্লিতে সীমান্ত সম্মেলনের বৈঠকে ফেলানী ইস্যুতে বিএসএফ মহাপরিচালক ডিকে পাঠক বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদকে অবহিত করেন, নিম্ন আদালতের দেয়া রায় তিনি এখনও অনুমোদন করেননি। যদি ফেলানীর পরিবার এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয় এবং বিএসএফকে অবহিত করে তাহলে বিএসএফ নতুনভাবে আদালত গঠন করে নতুন বিচারকদের সমন্বয়ে বিচার করবে। এ বিষয়ে ফেলানীর বাবা ও তাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে বিজিবির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে মামলা পুন:বিচারে গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর কোর্ট মার্শালের সমতুল্য বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট বা জিএসএফসি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়।
 
চার বছর আগে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭নং আন্তর্জাতিক পিলার ৩নং সাব পিলারের পাশ দিয়ে মই বেয়ে কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় টহলরত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করেন। 
 
বাংলাদেশ সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহার জেলার বিএসএফের ১৮১ সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে আসাম ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশনস) সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারক বেঞ্চ কঠোর গোপনীয়তায় বিচারকার্য শুরু করে। ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। 
 
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে সে দেশের সরকারকে ন্যায় বিচারের আশায় পত্র দেন। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পুন:বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন কারণে বারবার স্থগিতের পর এ বছরের গত ২ জুলাই আগের রায় বহাল রেখে অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। 
 
ফেলানী হত্যা মামলার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য মানবাধিকার কর্মী, কুড়িগ্রাম জেলা জজ কোর্ট পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, বিএসএফ যদি অফিসিয়ালি বলে থাকেন তাহলে বিজিবি মহাপরিচালক দেশে ফিরলে তার সাথে কথা বলে আমরা এর ব্যবস্থা নেব।
 
কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাকির হোসেন বলেন, মহাপরিচালক দেশে ফিরলে তার দেয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করা হবে। যাতে নতুন করে বিচার চাওয়ার মধ্য দিয়ে ফেলানী হত্যা মামলার যথাযথ সুরাহা হয়।