খুলনায় শিশু রাকিব হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বিউটি বেগম জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে খুলনা সদর থানায় আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েক দফা মামলার তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন বিউটি বেগম। তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক শরীফের মা বিউটি বেগম। ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও বারংবার দাবি করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়েও তিনি কিছু দেখতে পাননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।
তবে রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন তিনি। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা জানাতে অপারাগতা প্রকাশ করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কেও বিউটি বেগম গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মহানগর হাকিম ফারুক ইকবালের আদালতে বিউটি বেগমের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার এসআই কাজী মোস্তাক আহমেদ আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার অপর দুই আসামি গ্যারেজ মালিক শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টু খান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, তারা সুস্থ হলে তাদেরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট বিকালে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেয়া কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে তার পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটরসের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
