ইত্তেফাক রিপোর্ট
টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিজ্ঞজন। তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের জারিকৃত পরিপত্র বাস্তবায়নে স্কুল এবং পরিবারে ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতার প্রয়োজন। গত শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বেসরকারি সংস্থা ডর্প ও মেনুস্ট্রয়াল হেল্থ ম্যানেজমেন্ট-এমএইচএম প্লাটফর্ম ‘ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিনের গুরুত্ব ও করণীয় ঃ এসডিজি প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এ.কে.এম. শাহজাহান কামাল, এমপি। ডর্প’র প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেইলি এশিয়ান এইজের কনসালট্যান্ট এডিটর মোস্তফা কামাল মজুমদার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম আব্দুল কাইয়ুম, দি নেদারল্যান্ড সিমাভীর পরিচালক হিল্ডা আলবার্ডা।
সিমাভী ওয়াই প্রোগ্রামের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলোক মজুমদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সিমাভী ঋতু প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবা কুমকুম। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্প’র গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।
এ.কে.এম. শাহজাহান কামাল এমপি এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং এসডিজি বাস্তবায়নের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবো। বাজেট আলোচনায়ও বিষয়টি আনা প্রয়োজন।
শাহনওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে স্কুল থেকে মেয়েরা ঝরে পড়ে। বাল্যবিয়ে হয়। কিশোরী মায়ের সংখ্যা বাড়ে, নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য, ডর্প ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে নেত্রকোনা জেলার আটটি উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে মাসিক বা ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ‘ঋতু’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আটটি উপজেলায় নির্বাচিত ৮৯টি মাধ্যমিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১৭ হাজার ছাত্রীর পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন অধিকার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি স্কুলগামী ছাত্রীদের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন তথা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের জারিকৃত পরিপত্র ২০১৫ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
