স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৫, ১৮:৪০

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে নতুন প্রজন্ম হলো অগ্রবাহিনী শক্তি। এদের গণতান্ত্রিক ও আধুনিক যুগের সাথে সংগতি রেখে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর মীরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের পাশে মীরপুর আদর্শ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের এক হাজার ৪৩টির বেশী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় একযোগে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্বাচিতদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলেছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্টুডেন্ট কাউন্সিল ও স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের নেতৃত্ব গঠনের মূলমন্ত্র পাবে। যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখে শিক্ষার্থীদের এ নির্বাচন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক দলসহ সকলের অনুসরণীয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক চর্চার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের নির্বাচন শিক্ষার্থীদের সচল এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার এবং নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে গড়ে নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এবং ৭৫ পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সামরিক শাসন চলায় গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিখন-শিখানো কার্যক্রমে শিক্ষকমন্ডলীকে সহায়তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরেপড়া রোধে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

দেশের ৪৮৭টি উপজেলা ও ৮টি মহানগরের ১০৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ৪৯৫পি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৮৭টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ৬১টি কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৩২ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮ জন এবং ছাত্র ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৪ জন। নির্বাচনে ৮ হাজার ৩৪৪টি পদের বিপরীতে প্রতিন্দ্বন্ধী প্রার্থীও সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৪৩ জন।

চলতি বছরে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রত্যেক উপজেলায় বা মহানগরে মাধ্যমিক পর্যায়ের তিনটি প্রতিষ্ঠানে (১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়(সহশিক্ষা), ১টি কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদ্রাসা) সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শিশুকাল থেকে শিক্ষার্থীদের মনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছরে প্রায় ৬২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।

স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২২ মার্চ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে জাতীয় এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সারাদেশে একসাথে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের লক্ষ্যে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন হয়েছে।