ধর্মপাশায় আটটি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি!

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ২২:০৩

 

 

 ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, আটটি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতকাজ এখনো শেষ হয়নি। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, কাইলানী, জয়ধনা, ঘোড়াডোবা, গুরমা ও গুরমার বর্ধিতাং হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ বাস্তবায়ন করে আসছে। তবে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী শুরুতেই পিআইসি কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্প কাজ শুরু করে তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাওর জরিপ, প্রাক্কলন তৈরিসহ অন্যান্য কাজ যথাসময়ে শেষ হওয়ায় এ উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্প কাজ শুরু হয় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে।

উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল হাওরের ১৩নং প্রকল্পের পিআইসি কমিটির সভাপতি ও সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটি কাটার মেশিনটা নষ্ট হয়ে এক সপ্তাহ বসে থাকায় বাঁধের কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘১৫-১৬টি প্রকল্প ছাড়া বাকি সবকটি প্রকল্পের কাজই যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে বলে আমি আশাবাদী। কিছু স্থানে এক্সকাভেটরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রকল্প কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এ উপজেলার ৮৭টি প্রকল্পের মধ্যে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ৭৫টি পিআইসির সভাপতি কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে আমার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। তবে বাঁধের কাজ সঠিকভাবে শেষ করা হয়েছে কী না তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা হবে। বাঁধ মেরামত কাজের জন্য জেলা কমিটির কাছে লিখিতভাবে আরো দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এ বছর ৮৭টি প্রকল্পের অনুকূলে প্রায় ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।