পবিত্র হজ ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি করে দল থেকে বহিস্কার হওয়া আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির দিন চূড়ান্ত করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও লতিফ সিদ্দিকী বরাবর পৃথক দুটি চিঠি বিশেষ বাহক মারফত পাঠানো হয়েছে। ইসির আইন শাখার উপ সচিব মো. সেলিম মিয়া স্বাক্ষরিত চিঠি দুটি বিকেলে পাঠানো হয় বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
আশরাফ ও লতিফকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনার জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির শুনানির লক্ষ্যে ২৩ আগস্ট রবিবার ভেলা ১১টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করছি।’ পাশাপাশি বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকেও অনুলিপি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধিন ৫ সদস্যের কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট শাখাকে রবিবারের মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীকে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না সে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানি হবে। সেদিন দুই পক্ষের কথা শুনে চূড়ান্ত রায় দেবে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের স্পিকারের পাঠানো চিঠি বিশ্লেষণ করে তার জবাব পাঠাতে গত ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় লতিফ সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাত্ শেষ দিনে এমপি লফিত সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগ তাদের অবস্থা স্পষ্ট করে ইসির কাছে জাবাব দেন। এখন দুই পক্ষের চিঠি বিশ্লেষণ করে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির দিন চূড়ান্ত করে কমিশন। শুনানি শেষে ওই দিনই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে বলে ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান।
ইসির চিঠির জবাবে গত ২ আগস্ট আগামী লীগ সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২(১) ধারা এবং জাতীয় সংসদের কার্য-প্রণালী বিধির ১৭৮ বিধি উল্লেখ করে জানায়, যেহেতু তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, সেহেতু তার এমপি পদে থাকার আইনগত অধিকার নেই। তবে লতিফ সিদ্দিকী জবাবে বলেছে, তাকে বহিষ্কারের আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত ভুল। একই সঙ্গে তার বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে ইসিকে পুনরায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছেন বহিষ্কৃত এ নেতা।
এ দিকে, ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, পূর্বের নজির মধ্যে সপ্তম সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদও একই পদ্ধতিতে বাতিল করা হয়েছে। এবার লতিফ সিদ্ধিক বিতর্ক নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পিকারের অনুরোধ পাওয়া ইসি দুজনের বক্তব্য নিয়েছে। শুনানি শেষে সদস্য পদ বাতিলে করা হলে সে সিদ্ধান্ত ফের স্পিকারকে জানানো হবে। আসন শূন্য করতে স্পিকারের অনুরোধ পেলে উপনির্বাচনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে ইসি।
দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের দীর্ঘ ৮ মাস পর গত ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীকে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব ও দল থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকীকে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদও হারাতে হচ্ছে বলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মন্ত্রিসভায় তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। কিন্তু গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্ব্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী মহানবী (সা.), হজ ও তবলীগ নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ব্যাপক সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে লতিফ সিদ্দিকীকে গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ এবং পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীর প্রাথমিক সদস্য পদও খারিজ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারত হয়ে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরেন সাবেক এই মন্ত্রী। গত ২৫ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠান আদালত।
গত ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত ১৩ জুলাই আওয়ামী লীগের চিঠিটি পর্যালোচনা করে জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লতিফের এমপি পদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়।
