গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বিলের জলাভূমি ও কৃষিজমি থেকে নির্বিচারে চলছে পরিবেশ বান্ধব শামুক নিধন।
শামুকের ভেতরের নরম অংশ চিংড়ি মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিল থেকে এসব শামুক সংগ্রহ করে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করছে এলাকার শত শত শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ।
মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল, উজানী বিল, বড় বিল মুকসুদপুর বাওর, যোয়রিয়া বাওর বাড়ি বিল, সিঙ্গা বিল, ননীক্ষির বিল, জলিরপাড় বিল, বাসুদেবপুর বিলসহ বিভিন্ন এলাকার জলাভূমি, কৃষিজমি ও বিল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার শামুক ধরা হচ্ছে। শামুক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহও করছে অনেকে।
ফড়িয়ারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শামুক ক্রয় করে তা বিভিন্ন মোকাম ও ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে।
বর্তমানে উপজেলার সুইজগেট বাজারের পাশে শামুকের হাটে প্রতি ১০০টি শামুক বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা করে। ফড়িয়ারা এসব শামুক কিনে বাগেরহাট ও খুলনাসহ বিভিন্ন মোকাম ও মাছের ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে। এভাবে বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত চলে শামুকের কেনা-বেচা।
উজানী ইউনিয়নের বামনগাতী গ্রামের শামুক আহরণকারী পলাশ জানান, মাঠে পানি আসার পর থেকে শামুক আহরণ শুরু করে তারা। দিনে আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
মুকসুদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আবুল বাসার জানান, শামুক পরিবেশ ও কৃষির ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। শামুক কৃষি জমিতে ফসল বিনষ্টকারী বিভিন্ন পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফসল রক্ষা করে থাকে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। এ জন্য তিনি শামুক নিধন না করে প্রয়োজনে শামুক চাষের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
