শুধু পাশের জন্য নয়, শেখার আনন্দে পড়ো

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৮

চন্দন বর্ম্মণ

মনোযোগ

ভাবতো তুমি দিনে কতটুক সময় পড়ার টেবিলের সামনে বসে কাটাও। এই সময়ে তোমরা কতটুকু পরিপূর্ণ মনোযোগের সাথে পড়। একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবে ব্যাপক সময় আমরা নষ্ট করে ফেলি প্রতিনিয়ত। তোমাদের মনে রাখতে হবে সময় ও স্রোত কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। তাই পড়ার প্রতি টান রাখো। সামাজিক যোগাযোগ যতটা না জরুরী তার চেয়ে অধিক জরুরী পড়াশোনা। ফেসবুক নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা শুভ বিষয় নয়। শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন ‘ তোমরা ফেসবুক নিয়ে বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকবে না। দৌঁড়াতে হবে খেলতে হবে। তবেই শরীর-মন ভালো থাকবে’। তোমাদের মাথায় অনেক চিন্তার উদয় হয়। অপ্রয়োজনীয় চিন্তা দূরে সরিয়ে দাও। প্রয়োজনীয় চিন্তা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করো যেকোনো বিষয় নিয়ে। এতে তোমার পড়ার নির্দিষ্ট বিষয়ের ভিত শক্ত হবে। চিন্তনস্তর বৃদ্ধি পাবে। যেটুকু সময় তুমি পড়বে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করবে।

 

পরিকল্পনা

শিক্ষার্থী হিসেবে তোমার একটা পরিকল্পনা থাকা জরুরী। পরিকল্পনা কাজের একটা বড় অনুষঙ্গ। কর্মক্ষেত্রে, শিল্প প্রতিষ্টানে ও ব্যক্তি জীবনে যেমন পরিকল্পনা প্রয়োজন তেমনি পড়াশোনায় ও একটা সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তোমাদের জন্য এ পরিকল্পনা হতে পারে একটা রুটিন। তবে এটিও সত্য বা এটিও আমরা দেখি অনেক শিক্ষার্থীই রুটিন তৈরি করে ঠিকই কিন্তু তা পালন করা হয় না। পড়ার টেবিলের সামনে দেয়ালে টাঙ্গানোই শুধু দেখা যায়। তবে রুটিন মেনে প্রতিদিন একটু একটু পড়লে কখন যে তোমার সিলেবাস শেষ হবে তা বুঝতেই পারবে না। প্রতিদিন পড়বে পড়তে হবে। পড়া তোমার জন্য হবে একটা পণ বা ব্রত। সে ব্রত পালন করলে তুমি ভালো ফল প্রাপ্তির জন্য এগিয়ে থাকবে। আর এভাবে এগুলে ভালো ছাত্রের পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে পারবে। বুঝে পড়া যেমন আবশ্যক তেমনি পড়ার যে অংশটুকু আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়োগিক আবেদন রাখে সেটাও মনে প্রাণে পালন ও প্রয়োগ করতে হবে। ক্লাসে প্রথম হওয়াই ভালো হওয়ার একমাত্র মানদণ্ড নয়।  সাহায্য, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, নম্রতা প্রভৃতি মূল্যবোধগুলো চর্চায় রাখতে হবে। তাই তোমরা পড়ো আনন্দের সঙ্গে পড়ো শেখার জন্য পড়ো।