আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, কার্জন হল, ক্যাম্পাস শ্যাডো, হাকিম চত্বরসহ পুরো ক্যাম্পাসেই জমজমাট অবস্থা। সব জায়গাতেই প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার আর লিফলেট নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইছেন। এরই মাঝে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।
ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরি শোভন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে প্রচারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী। এর বাইরে রোকেয়া হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেলের লিফলেটে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি যা আচরণ বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এছাড়া ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলছেন, সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সুবিধা নিচ্ছে। অপরদিকে ছাত্রলীগ বলছে ক্যাম্পাসে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য। গতকাল দুপুরে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।
ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধি ৩(ক) ধারায় বলা হয়, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমাদান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার বা নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের যানবাহন, মোটর সাইকেল, রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, হাতি, ব্যান্ড পার্টি ইত্যাদি নিয়ে কোনোরূপ শোভাযাত্রা, শোডাউন বা মিছিল করা যাবে না। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এবং বারান্দায়ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর বিষয়ে আচরণবিধিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরি শোভনের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারবো না। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তীতে জানাবো।’ এর আগেও নির্বাচনী প্রচারণায় রঙ্গিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করে বিতর্কিত হয়েছিলেন শোভন। তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেসব পোস্টার ও ব্যানার সরিয়ে নেয় তার সমর্থকেরা।
ব্যান্ড পার্টি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এবং প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, এটি কোনো ব্যান্ড পার্টি নয়। এটি আমাদের নিজস্ব গান। আমরা গান গেয়ে গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। এটি মূলত গানের মিছিল ছিল।
নির্বাচনে প্রার্থিতা করা ছাত্র সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ছাত্রলীগ লিখিত অভিযোগ করেছে। এর বাইরে কয়েকটি সংগঠন মৌখিকভাবেও অভিযোগ করেছে। সব সংগঠনের অভিযোগ আমলে নিয়েই আমরা আচরণবিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এসময় সব ছাত্র সংগঠনগুলোকে প্রচারণায় আচরণবিধি মেনে চলার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি।
