মানবসভ্যতার ‘স্মৃতিচিহ্ন’ থেকে যাবে চাঁদে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৮

লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বছর পর যখন পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাবে মানবসভ্যতা, তখনও সেই সভ্যতার ‘পদচিহ্ন’ থেকে যাবে চাঁদে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে। যাতে ১০০ কোটি বছর পরেও ব্রহ্মাণ্ডের কোনও না কোনও প্রান্ত থেকে এসে এই সৌরমণ্ডলের একটি গ্রহের সবচেয়ে উন্নত সভ্যতা কেমন ছিল, তা জানতে পারবে ভিনগ্রহী বা সুপার হিউম্যানরা। ভিনগ্রহীদের জন্য মানবসভ্যতার সেই ‘স্মৃতিচিহ্ন’ নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে ইসরাইলি মহাকাশযান ‘বেরিশিট’।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে মহাকাশযান বেরিশিট পা রাখবে চাঁদে। বেরিশিটে রয়েছে মানবসভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন সম্পন্ন একটি লাইব্রেরি, যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘লুনার লাইব্রেরি’। যেখানে থাকবে মানবসভ্যতার প্রায় সবক’টি এগিয়ে থাকা ভাষায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই ও বিজ্ঞান-ইতিহাস-ভূগোল-রাজনীতি সংক্রান্ত হরেক নথিপত্র। মোট তিন কোটি পাতার। মানবসভ্যতার যাবতীয় জ্ঞান, বিদ্যাবুদ্ধি, শক্তি প্রদর্শন আর বিভিন্ন সাম্রাজ্যের জন্ম, বিস্তার ও অবসানের সব ইতিহাসটুকুই অক্ষুণ্ন থাকবে ওই তিন কোটি পাতায়। থাকবে গান, স্বরলিপিও।

সেই লুনার লাইব্রেরির চেহারাটা হবে একটি হাতে ঘোরা ডিভিডি-র মতো। পুরোটাই হবে ধাতব। ওই লাইব্রেরিটি যারা বানিয়েছে, লস এঞ্জেলসের অলাভজনক সংস্থা ‘আর্ক মিশন ফাউন্ডেশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নোভা স্পিভাক। স্পিভাক জানিয়েছেন, চাঁদের মাটিতে যাবতীয় সৌর ও মহাজাগতিক বিকিরণের ঝাপটা সয়েও ওই লুনার লাইব্রেরি যাতে অন্তত ৬০০ কোটি বছর টিকে থাকতে পারে, সেইভাবেই তা বানানো হয়েছে। সেখানে ২০০ গিগাবাইটেরও বেশি এমন সব তথ্য থাকবে যা আদতে উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণ। থাকবে হাজার হাজার ফিকশন ও নন-ফিকশন বই। পৃথিবীর এগিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাষার। থাকবে নামজাদা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যপুস্তকের সংগ্রহ। পৃথিবীর অন্তত পাঁচ হাজারটি ভাষা কীভাবে পড়তে হয়, দেওয়া থাকবে তার গাইডলাইনও।

স্পিভাক জানিয়েছেন, পৃথিবীর মানবসভ্যতা সম্পর্কে নির্ভুলভাবে খবর পাওয়ার জন্য চাঁদে আগামী দিনের ভিনগ্রহী পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আরও কয়েকটি ‘হাতিয়ার’। কারণ আমাদের ব্যবহার করা ডিভিডি থাকবে না সেই সুপার হিউম্যান বা ভিনগ্রহীদের হাতে। পৃথিবীতে এখন যত রকমের ভাষায় আমরা কথা বলি, তার কোনওটাই তারা বুঝতে পারবে না। তাই লুনার লাইব্রেরির এই নিকেলে বাঁধানো ডিস্কের উপরিতলে থাকবে মানবসভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বই ও নথিপত্রের ছবি। সেখানে দেওয়া থাকবে মানবসভ্যতার ভাষাগুলো পড়ার সব রকমের কোড। বোঝানো থাকবে কীভাবে সেই কোডগুলোকে ‘ডি-কোড’ করা যায়। —আনন্দবাজার