ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ২২:৪২

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এর তদন্ত প্রতিবেদনে। ভবনে প্রচুর কেমিক্যাল থাকায় বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার সময় স্ফুলিঙ্গ বা অসাবধানতাবশত জ্বালানো আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠন করে আইইবি। ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। গত শনিবার প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনজুর মোর্শেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিটি আমার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছি। প্রতিবেদনে আগুন লাগার কারণ এবং কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’

আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নুরুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারকে সদস্যসচিব করে ৬ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসিটিভি’র ফুটেজ ও মোবাইল ক্যামেরার কিছু ভিডিওতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে অনেকেই দাবি করেছে, আগুন ওয়াহেদ ম্যানশনের বাইরে থেকে শুরু হয়ে ভবনে ছড়িয়েছে। মসজিদের পাশের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ফ্রেশনারের ক্যান এসে পড়ছে রাস্তার ওপর। তাতে আপাত দৃষ্টিতে আগুন ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলা থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বিপুল পরিমাণে অতি দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন লাগার পর বিস্ফোরণে দেয়াল ভেঙে পড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়েছে। তবে ভেতরের দিকে অক্সিজেনের সরবরাহ কম থাকায় আগুন সেদিকে বাড়তে পারেনি। এজন্য ওয়াহেদ ম্যানশন সংলগ্ন ওয়াহেদ মঞ্জিলের কোনও ক্ষতি হয়নি। তার বদলে আগুন রাস্তার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিপরীতমুখী নানা তথ্য থাকায় ঘটনাস্থলের পরিপূর্ণ ফরেনসিক তদন্ত প্রয়োজন।