যশোর-কলকাতা রেলযাত্রা শুরু হচ্ছে ৫৪ বছর পর

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৪

৫৪ বছর পর যশোর-কলকাতা সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু হচ্ছে। কাল বৃহস্পতিবার প্রথম ট্রেনটি ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ যশোর থেকে কলকাতা যাবে। এই ট্রেনটি ছেড়ে আসবে খুলনা থেকে। তারপর যশোর থেকে যাত্রী তুলে কলকাতার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যাবে।

মাঝে বেনাপোলে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন হবে। প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনটি কলকাতা থেকে ছেড়ে খুলনায় যায়। আবার দুপুরে খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী জানান, খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে যশোরে যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যশোর রেলওয়ে জংশনে এই ট্রেনটি তিন মিনিটের জন্য থামবে। যাত্রী উঠানামা করবে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক এ ট্রেনে যশোরের মানুষের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৭৫টি আসনের ঘোষণা ছিল। কিন্তু যশোর স্টেশন থেকে কোনো টিকিটি দেয়া হতো না। ট্রেনটিও যশোর স্টেশনে থামত না। এ নিয়ে যশোরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলামের নির্দেশনায় যশোর অঞ্চলের মানুষের জন্য ২শ’ আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে আরো জানা গেছে, খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত পৌনে ২শ’ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। যশোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত লাগবে চার ঘন্টা। সকাল সাড়ে ৭টায় কলকাতার চিত্পুর থেকে যাত্রী নিয়ে দুপুর সাড়ে ১১টায় বন্ধন পৌঁছাবে যশোরে। আর খুলনায় পৌঁছাবে সাড়ে ১২টায়। এরপর দুপুর দেড়টায় খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে যশোরে পৌঁছাবে আড়াইটায়। তিন মিনিট বিরতি দিয়ে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কলকাতা-খুলনার মধ্যে ৪৫৬ আসনের ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামের আন্তর্জাতিক ট্রেনটি চালু হয়। শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এ ট্রেনে চড়ার জন্য কেবিনে দেড় হাজার ও চেয়ারের জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এছাড়া রয়েছে ৫শ’ টাকা ভ্রমণ কর। শুরু থেকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত একবছর দুইমাসে এ ট্রেনে করে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ১৫ হাজার ৫৭৯ জন যাত্রী। এরমধ্যে কলকাতা থেকে এসেছেন ৬ হাজার ৭৪৫ ও খুলনা থেকে কলকাতায় গেছেন ৮ হাজার ৮৩৪ জন।