জীববিজ্ঞান
আসাদ উজ জামান, শিক্ষক
সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
গতকালের পর
নিউমোনিয়া (Pneumonia)
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।
কারণ : অত্যধিক ঠাণ্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
লক্ষণ :
১. ফুসফুসে শ্লেষা জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
২. কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
৩. দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাত্ বেশি জ্বর হয়।
৪. চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।
প্রতিকার :
১. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করা।
২. তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
৩. বেশি করে পানি পান করানো।
প্রতিরোধ :
১. শিশু, বয়স্কদের যেন ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
২. ধুমপান পরিহার করা।
৩. আলো বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
৪. রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।
যক্ষ্মা (Tuberculosis)ঃ
১. যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
২. যেকোনো লোক যেকোনো সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। জীবানুর আক্রমণে দেহের শ্বেত রক্ত কণিকা পরাস্ত হলে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
কারণ ঃ Mycbacterium tuberculosis নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
লক্ষণ :
১. রোগীর ওজন কমতে থাকে, আস্তে আস্তে শরীর দুর্বল হতে থাকে।
২. সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে।
৩. খুসখুসে কাশি হয় এবং কখনও কখনও কাশির সাথে রক্ত যায়।
৪. রাতে ঘাম হয়, বিকেলের দিকে জ্বর আসে । দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।
৫. বুকে পিঠে ব্যথা হয়।
৬. অজীর্ণ ও পেটের পীড়া দেখা দেয়।
প্রতিকার :
১. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা করা ।
২. এ রোগের চিকিত্সা দীর্ঘমেয়াদী। রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠিনভাবে মেনে চলা।
৩. রোগীকে হাসপাতালে বা স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো অধিক নিরাপদ।
৪. রোগীর ব্যবহারের সবকিছু পৃথক রাখা উচিত ।
৫. রোগীর কফ বা থুথু মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়।
