৩০০ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেবে বিএসএমএমইউ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৯

সম্প্রতি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩০০ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেয়া হবে এবারের প্রক্রিয়ায়। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আবেদনের কার্যক্রম। অনলাইন ও সরাসরি দুইভাবেই আবেদন করা যাবে উল্লিখিত পদে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

আবেদনের যোগ্যতা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উল্লিখিত পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের ডিপ্লোমা-ইন- নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অথবা বিএসসি ইন নাসিং ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়াও প্রার্থীদের বাংলাদেশ নার্সিং  ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিবন্ধন থাকতে হবে।

বয়সসীমা

উল্লিখিত পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়সসীমা আগামী ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে সর্বোচ্চ ত্রিশ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বয়স সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো প্রকার এফিডেফিট গ্রহনযোগ্য হবে না। মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় আবেদনের জন্য উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে প্রার্থীদের।

আবেদন পদ্ধতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)তে ৩০০ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বিএসএমএমইউ www.bsmmu.edu.bd এর নিজস্ব ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি।  এবারের প্রক্রিয়াতে অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবে আবেদন করা যাবে। অনলাইন আবেদন ফরম পাওয়া যাবে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব ঠিকানায় । সর্বমোট তিন সেট আবেদনপত্র জমা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস কক্ষ নম্বর ১৮ (ব্লক-বি, নিচতলা) ঠিকানায়।

যা যা লাগবে

অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রার্থীর সদ্যোতোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২৪০ বাই ২৪০ পিক্সেল), স্বাক্ষর (৩০০ বাই ৮০ পিক্সেল) এবং লিখিত পরীক্ষার ফি জমাদানের কপি আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটার প্রার্থী হলে মুক্তিযোদ্ধা সনদের কপি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। আবেদনের ট্রেকিং নম্বর ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে হবে। যারা সরাসরি আবেদনপত্র জমা দিতে চান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। পূরণকৃত আবেদনের সঙ্গে তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া রসিদের কপি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।  পরীক্ষার ফি বাবদ পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের যেকোনো অনলাইন শাখায় রেজিস্ট্রার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, শাহবাগ এভিনিউ শাখা, ঢাকার হিসাব নম্বরে (এসটিডি-৪৩০) ৫০০ টাকা জমা করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পূরণকৃত আবেদনপত্র আগামী ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখ দুপুর আড়াইটার মধ্যে জমা দিতে হবে।  তবে ফি জমা দেওয়া যাবে আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৩ ডিসেম্বর থেকে ট্রেকিং নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই ধরনের পরীক্ষায় বসতে হবে। প্রথমে নেওয়া হবে এমসিকিউ টাইপের লিখিত পরীক্ষা। বিগত নিয়োগ পরীক্ষার মতো এ বছরও ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতির পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষায়। ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। তবে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন হতে পারে। লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময়, কেন্দ্র ইত্যাদি প্রবেশপত্রে উল্লেখ থাকবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রত্যেক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের কম/বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়। পূর্বে অনুষ্ঠিত এই পদের বিপরীতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোতে দেখা গিয়েছে যে, এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষায় এইচএসসি পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যা বিষয়ে প্রশ্ন  করা হয়েছে। এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মন্তব্য করছেন সিনিয়র স্টাফ নাসরা। প্রশ্ন করা হয় নার্সিং কোর্সের পাঠ্য বই এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে। নার্সিং বিষয়ের সাধারণ বিষয়গুলো থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নার্সিং বিষয়ের পাঠ্য বই এবং ব্যাবহারিক বিষয়ের খুঁটিনাটি জানতে হবে। সঙ্গে সাধারণ জ্ঞান বিষয়েও পড়াশোনা থাকতে হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে একই ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন  করা হয়েছিল। তাই আগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলে প্রশ্নপত্র কী ধরনের হয়ে থাকে, সে বিষয়ে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। কোনো সিনিয়র স্টাফ নার্সের পরামর্শ নিলেও কাজে দেবে।

এমসিকিউ পরীক্ষার বাংলা অংশে ব্যাকরণ এবং সাহিত্য থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাহিত্য অংশে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের জীবনী, সাহিত্যকর্ম, বিভিন্ন গ্রন্থের নাম, উপন্যাস বা গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের নাম, বিখ্যাত লেখাসহ সাহিত্যের অন্যান্য অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। মাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা পাঠ্য বই থেকে কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী অংশ ভালোভাবে পড়তে হবে। ব্যাকরণ অংশে বাগধারা, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, বচন, সমাস, উপসর্গ, এককথায় প্রকাশ,সন্ধিবিচ্ছেদ, প্রবাদ-প্রবচন, সমার্থক, বিপরীতার্থক ও পারিভাষিক শব্দ, পদ, সমোচ্চারিত শব্দ, বিপরীত শব্দ,  কারক, বিভক্তি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সাম্প্র্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে রচনা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ থাকে লিখিত পরীক্ষায়। বোর্ড প্রকাশিত নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা ও সাহিত্য এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যের বই প্রস্তুতিতে বেশ সহায়ক হবে।

গ্রামার বিভাগ থেকে কয়েকটি করে প্রশ্ন থাকতে পারে। রচনামূলক অংশে সাধারণত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইংরেজি রচনা আসতে পারে। বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ ও লেটার রাইটিংও থাকে। ইংরেজিতে বেসিক ভালো হলে সহজেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর করা যায়। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর গ্রামার বই পাওয়া যায়। সেসব বই ছাড়াও নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য ইংলিশ গ্রামার বইটি বেশ কাজের। এমসিকিউ ও লিখিত উভয় পরীক্ষায় পাটীগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন আসে। পাটীগণিতে শতকরা, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, লসাগু, গসাগুসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। বীজগণিতে থাকে উত্পাদক নির্ণয়, সমীকরণ, মূলদ, অমূলদ, সূচক ও লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ বিষয়ে। শতকরা, লাভ-ক্ষতি, গাণিতিক যুক্তি, সুদকষা ও ঐক্যিক নিয়ম থেকে এমসিকিউ ও রচনামূলকে বেশি প্রশ্ন থাকে। জ্যামিতি, পরিমিতি থেকেও প্রশ্ন আসে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণির পাটীগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি বই পড়তে হবে।

বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বেতন দেয়া হবে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬শ’ ৪০ টাকা।

 প্রয়োজনে যোগাযোগের ঠিকানা

রেজিস্ট্রার অফিস, কক্ষ নম্বর ১৮ (ব্লক-বি, নিচতলা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা।

উল্লেখ্য, সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে www.bsmmu.edu.bd ওয়েবসাইটে ।