ভালবাসার এক অন্যরকম নজির। ফুটবল বিশ্বে বিভিন্ন দলের নানা রকম সমর্থকের কথা শোনা গেছে। কিন্তু নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রম সমর্থক গোষ্ঠীর। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সমর্থনে ১৫ সদস্যের এক ব্যতিক্রমী সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন তারা।
ফুটবলার যেমন মাঠে খেলেন, তেমনি তারা মাঠেই কাজ করেন। তবে প্রিয় ব্রাজিল দলের জার্সি পড়ে। এই দলের প্রতি একটি নির্দেশ রয়েছে জার্সি না পড়লে সে আর দিনমজুরের কাজ করতে পারবে না।
উপজেলার বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়া এলাকার দক্ষিণ দোলায় আউষ ধানের চারা লাগানোর সময় এসব দিনমজুরের সাথে কথা হয়।
দিনমজুরদের দলনেতা মোকছেদুল-১ (৩৫) জানান, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে টিভিতে খেলা দেখে আমরা সবাই ব্রাজিল দলের সমর্থক হয়ে যাই। সে থেকে জার্সি নিজেরাই ১২০ টাকা কিনে গায়ে চড়াই। কাজ করার সময় এই জার্সি না পড়লে তাকে কাজে নেয়া হয় না এটা বলে দেয়া আছে। ব্রাজিলের ফুটবল খেলোয়াড়রা মাঠে খেলেন আর আমরা মাঠে তাজ করি। জার্সি পুরানো হলে আবার ২০১৪ সালে নতুন করে কেউ কেউ কিনে নেন।
১৫ সদস্যের এই দলে রয়েছেন আব্দুল কাদের (৩৪), সাজু (৩৬), আইনুল (৩২), সাহানুর (৩৪), সালেক (২৯), রাশেদ (৩১), আতাউর (২৫), মোকছেদুল-২ (৩৩), আকতারুল (২৪), আব্দুল লতিফ (৩২), রুহুল আমিন (২৯), হালিম (২৭), আনিস (৩৫) ও মোসাদ্দেক (৩৫)। এদের সকলের বাড়ি পাশাপাশি গ্রাম কোরাণীপাড়া, কান্দুরা মোড় ও দলুয়া চৌধুরীপাড়ায়।
IMG0
দলনেতা জানান, দলের প্রতি ভালবাসায় তারা ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী নামে একটি সংগঠনও তৈরি করেছেন। চলতি আউষ মৌসুমে তারা প্রতিবিঘা (৬০ শতাংশ) জমিতে ধানের চারা লাগাতে মালিকের কাছ থেকে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নিয়ে থাকেন। টাকা ভাগাভাগির পর অবশিষ্ট টাকা সমর্থক গোষ্ঠীতে জমা করেন। এভাবে তাদের নিজস্ব চাঁদার টাকায় চলছে তাদের সংগঠনটিও।
ফুটবল খেলায় রেফারির বাঁশি দুটি দলকেই পরিচালিত করে থাকে। কিন্তু এই দলে বাঁশি নেই আছে দলনেতা। তার কথা সবাই মেনে চলেন। কাজের জন্য গৃহস্থরা তার হাতে পারিশ্রমিক ও অগ্রিম টাকা-পয়সা দিয়ে থাকে। পরে সকলেই তা বিলিবণ্টন করে নেন। কোনদিন কার কাজ হবে সেটাও ঠিক করেন তিনি।
এই জার্সি পড়েই দলের সবাই ধানের চারা লাগানো, ধান, পাট, গম কাটা- মাড়াই, ক্ষেতের নিড়ানির কাজসহ সকল কৃষি কাজ করে থাকেন। এভাবে তারা সকলে মিলেমিশে কাজ করছেন বছরের পর বছর। কোন ফুটবল সমর্থক যদি তাদের ক্লাবে সহযোগিতার হাত বাড়ান তাহলে সমাজসেবার কাজ করতে পারবেন বলে সবাই মনে করেন।
