জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ভারতের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হার। আর এখন ভারতে এসে একদিনের সিরিজে ০-২ পিছিয়ে পড়া। চলতি বছরে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে মোটেই ছন্দে দেখাচ্ছে না গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে।
কিংবদন্তি অজি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন অবশ্য শিরোপা রক্ষায় রীতিমতো আশাবাদী। তাকে আশায় রাখছে বল-বিকৃতি কাণ্ডে এক বছরের নির্বাসন কাটিয়ে স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ফেরা। এপ্রিলেই নির্বাসন উঠে যাচ্ছে দুই তারকার। তারপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে কোনও বাধা নেই। তবে দু’জনেরই সদ্য কনুইয়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ফলে, নির্বাসনের মেয়াদ কাটানোর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে দু’জনে কেমন খেলবেন, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে থাকছে সংশয়।
অবশ্য ওয়ার্নের মনে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। তিনি নিজেও নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের দায়ে ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে এক বছর নির্বাসিত ছিলেন। অনেকেই তার ফিরে আসা নিয়ে ছিলেন সন্দিহান। কিন্তু, ওয়ার্ন দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন ঘটান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও অনেক বছর খেলেন।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে ফক্স স্পোর্টসে ওয়ার্ন বলেছেন, ‘কখনও কখনও এই লম্বা বিরতি কাজে লাগে। আমি যেমন এর সঙ্গে অভ্যস্ত। আমি নিজে ১২ মাস বাইরে ছিলাম। আর এর ফলে রীতিমতো তরতাজা হয়ে ফিরেছিলাম। মানসিকভাবে একদম ফ্রেশ ছিলাম। সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলাম আবার। ক্রিকেট যে নিজের কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, সেই উপলব্ধি হয়।”
স্মিথ-ওয়ার্নারেরও নিজেকে প্রমাণের তাগিদ সঙ্গী হবে বলে মনে করছেন ওয়ার্ন। তার মতে, ‘হ্যাঁ, দু’জনেরই থাকবে তাগিদ। তার জন্যই তো অস্ট্রেলিয়া ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে বলে মনে করছি। ওরা দু’জনেই সোজা ঢুকে পড়বে দলে। ওরা ক্ষুধার্তও থাকবে। প্রথম কয়েকটা ম্যাচে হয়ত নার্ভাসও থাকবে। তবে সেটা ওদের পক্ষে ভাল। আশা করছি, ওদের বরাবরের মতোই ধারাবাহিক দেখব।’ ওয়ার্নের সঙ্গে একমত অস্ট্রেলিয়ার নবনিযুক্ত সহকারী কোচ রিকি পন্টিংও।
স্মিথ-ওয়ার্নারকে নির্বাসন কাটিয়ে উঠে প্রথমে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেখা যাবে। যা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে অস্ত্রোপচার হয়েছিল স্টিভ স্মিথের। লিগামেন্টে সমস্যার জন্য তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল। ওয়ার্নারের চোট তুলনায় অত ভয়াবহ ছিল না। যদিও স্মিথের মতো ওয়ার্নারও একই প্রতিযোগিতায় পেয়েছিলেন চোট।
ইত্তেফাক/কেআই
